পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি বলেছেন, ‘কৃষকের অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদ-আসলে সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে।’
রোববার (১৯ জুলাই) পঞ্চগড় জেলার বোদা পাইলট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এক কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষকবান্ধব রাজনীতির ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষিকে জাতীয় উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, স্বল্পসুদে কৃষিঋণ এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার যে ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারা আরো শক্তিশালী করেন। তার সরকারের সময় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলাপি কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ, শতভাগ সুদ মওকুফ এবং কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তির ব্যবস্থা ছিল কৃষকের অর্থনৈতিক মুক্তির এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।’
তিনি আরো বলেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পরদিন অর্থাৎ ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তটি অনুমোদিত হয়। এর আওতায় দেশের প্রায় ১২ লাখ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক ঋণমুক্ত হয়েছেন। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খেলাপি কৃষিঋণের মূলধন ও সুদ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পরিশোধ করছে। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ১,৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বোদা উপজেলার ৫,৮৯২ জন কৃষকের মাঝে কৃষিঋণ মওকুফের সনদ প্রদান ও দলিল ফেরত প্রদানসহ ৩০ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ সময় ঋণমুক্তির আনন্দে কৃষকদের মুখে ফুটে ওঠে হাসি।
এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, বোদা উপজেলায় মোট ৫,৮৯২ জন কৃষক এ সুবিধার আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের পাঁচটি শাখার ২,৪২০ জন এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) পাঁচটি শাখার ৩,৪৭২ জন কৃষকের মোট ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষিঋণ সরকার পরিশোধ করেছে।
এ উদ্যোগের ফলে কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বহু সার্টিফিকেট মামলা নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে, যা তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



