গৌরীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বিএনপি নেতার মাথা ন্যাড়া

আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। কিন্তু এমন অপমানজনক নির্যাতনের শিকার কখনো হইনি। আমার অপরাধ—আমি ঘোড়া মার্কার নির্বাচন করেছি। অথচ এখানে ধানের শীষ বিজয়ী হয়েছে, প্রতিমন্ত্রীও হয়েছেন। আশা করি সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।”

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Gauripur
বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান তালুকদার। ডানে ন্যাড়া করার পর
বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান তালুকদার। ডানে ন্যাড়া করার পর |নয়া দিগন্ত

সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতীক ‘ঘোড়া’ মার্কার পক্ষে কাজ করায় এক বিএনপি নেতার মাথা ন্যাড়া করে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরের ২ নম্বর রেলক্রসিং-সংলগ্ন নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রকাশ্যে না এলেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগীর মাথা ন্যাড়া করা ছবি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি আলোচনায় আসে।

লাঞ্ছিত বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান তালুকদার জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গৌরীপুর থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে পৌরসভার রেলক্রসিং অতিক্রম করার পর স্থানীয় পৌর কৃষক দলের সভাপতি কাজিয়েল হাজাত শাহী মুন্সি তাকে দেখতে পান।

তিনি দাবি করেন, টোল আদায়ের কারণে সিএনজি অটোরিকশা থামানো হলে শাহী মুন্সি দৌড়ে এসে তাকে টেনেহিঁচড়ে নামান। এরপর অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও শারীরিক নির্যাতন করে পাশের একটি সেলুনে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক চেয়ারে বসিয়ে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করা হয়। এমনকি তার ভ্রু কেটে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। কিন্তু এমন অপমানজনক নির্যাতনের শিকার কখনো হইনি। আমার অপরাধ—আমি ঘোড়া মার্কার নির্বাচন করেছি। অথচ এখানে ধানের শীষ বিজয়ী হয়েছে, প্রতিমন্ত্রীও হয়েছেন। আশা করি সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।”

অভিযুক্ত পৌর কৃষক দল সভাপতি কাজিয়েল হাজাত শাহী মুন্সি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্যই মিথ্যা-বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।”

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষক দল ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল বাশার আকন্দ বলেন, “ঘটনাটি শুনেছি। অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি অস্বীকার করেছেন। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিহিংসামূলক আচরণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী এবং দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে।