যশোরের চৌগাছায় পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। এ বছর ভালো দাম পেয়ে খুবই খুশি তারা। নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন, সোনালি আঁশের সুদিন আবার ফিরছে।
এক সময় দেশের অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে পরিচিত ছিল সোনালি আঁশ পাট। নানা প্রতিকূলতায় কয়েক দশক ধরে পাটের আবাদ কমে গেলেও বর্তমানে আবারো সেই হারানো সম্ভাবনা ফিরে আসছে। ভালো ফলন, লাভজনক বাজারমূল্য, পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য এবং সরকারি সহায়তার কারণে এ অঞ্চলে নতুন করে পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে উপজেলার কৃষি অধিদফতরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হওয়ায় কৃষি বিভাগও আশাবাদী।
সময়মতো বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠজুড়ে পাটগাছের বৃদ্ধিও বেশ সন্তোষজনক। সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে চৌগাছা অঞ্চলে বাম্পার ফলনের পাশাপাশি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন কৃষকরা।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে তোষা, দেশি ও মেস্তা জাতের পাটের জন্য ৮ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকদের আগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৬ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৬ হেক্টর বেশি। এই প্রবণতা শুধু কৃষকদের আস্থার প্রতিফলন নয়, বরং পাট খাতের সোনালী দিন পুনরুজ্জীবনেরও ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দুলছে সবুজ পাটগাছ। আগাম চৈত্রি পাট অনেকে কাটা শুরু করেছেন। কেউ কেউ পাট পচানো শেষে আঁশ ছড়িয়ে রোদে শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষকেরা বলছেন, সঠিক সময়ে পরিমাণমতো বৃষ্টিপাতের কারণে এবার সেচের প্রয়োজন কম হয়েছে। গাছের উচ্চতা, বৃদ্ধি ও ছাল খুবই ভালো হওয়ায় ফলন নিয়ে আশাবাদী তারা।
চলতি মাসের প্রথমদিক থেকে বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা শুরু হয়েছে। কোনো কোনো অঞ্চলে জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর কাজ শুরু হয়েছে।
উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক আরিফ হোসেন বলেন, গত বছর প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। এবারও যদি একই ধরনের দাম পাই, তাহলে পাট চাষ লাভজনক হবে এবং কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে।
উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের ছোটকুলি গ্রামের পাটচাষি মিলন হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, লিটন হোসেন, মিজার হোসেন ও মালিগাতি গ্রামের পাটচাষি অপূর্ব কুমার রায়, শৈলেন কুমার জানান, মাঠের পাটের অবস্থা খুবই ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হতে পারে। তারা চলতি মাসের শেষভাগ থেকেই পাট কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাব্বির হোসাইন বলেন, ‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করছে। পাট উৎপাদন বাড়াতে কৃষিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, কারিগরি পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি পানির সঙ্কট দেখা দিলে আঁশের মান বজায় রাখতে আধুনিক আঁশ আহরণ প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।’



