ময়মনসিংহে গম নিয়ে কারসাজি: কাগজে উত্তোলন, গুদামে মজুত!

য়মনসিংহে সরকারি গম নিয়ে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে ৩৮০ টন গম উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তবে তার একটি অংশ গুদামেই মজুত থাকার ঘটনা প্রশাসনের নজরে আসতেই শুরু হয়েছে অভিযান।

ময়মনসিংহ অফিস

Location :

Mymensingh
ময়মনসিংহে গম নিয়ে কারসাজি: কাগজে উত্তোলন, গুদামে মজুত!
ময়মনসিংহে গম নিয়ে কারসাজি: কাগজে উত্তোলন, গুদামে মজুত! |নয়া দিগন্ত

ময়মনসিংহে সরকারি গম নিয়ে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে ৩৮০ টন গম উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তবে তার একটি অংশ গুদামেই মজুত থাকার ঘটনা প্রশাসনের নজরে আসতেই শুরু হয়েছে অভিযান। বিষয়টি ঘিরে খাদ্য বিভাগে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে।

রোববার (১৪ জুন) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে (সিএসডি) অভিযান চালায়। অভিযানে প্রাথমিকভাবে নথিপত্রে অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জামিলুর রহমান।

খাদ্য বিভাগ সূত্র জানায়, তারাকান্দার কেন্দুয়া বাজারের মেসার্স তালুকদার ফ্লাওয়ার মিলের নামে ৮ জুন ৩৮০ টন গম বরাদ্দ দেয়া হয়।

শর্ত ছিল—নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গম উত্তোলন করে আটা উৎপাদন শেষে তা সরকারি গুদামে সরবরাহ করতে হবে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ১১ জুন কাগজে পুরো গম উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তবে তা গুদাম ছাড়েনি।

অভিযান চলাকালে ৩০ নম্বর গুদামে গিয়ে দেখা যায়, লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ। গুদামের সামনে পুলিশ মোতায়েন। সংশ্লিষ্টরা স্বীকার করেন, তালুকদার ফ্লাওয়ার মিলের নামে দেখানো গমের একটি অংশ এখনো গুদামেই রয়েছে—যা পুরো ঘটনাকে আরো সন্দেহজনক করে তুলেছে।

গুদামের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই জুনায়েদ ইবনে শফি দাবি করেন, বরাদ্দপত্রের স্বল্প মেয়াদের কারণে কাগজে উত্তোলন দেখাতে হয়েছে। পরিবহন সঙ্কট ও কাজের চাপে গম সরানো সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান।

তবে ভেতরের চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাদ্য বিভাগের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ—কাগজে উত্তোলন দেখিয়ে পরে সেই গম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রির পুরোনো চক্র সক্রিয় রয়েছে। এতে জড়িত একাধিক পক্ষ, ফলে অনিয়ম চাপা পড়ে যায়।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিএসডি ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ এরশাদুর রহমান খান। তার ভাষ্য, সময় স্বল্পতার কারণে পুরো গম সরবরাহ সম্ভব হয়নি, এখনো প্রায় ৯৪ টন উত্তোলন বাকি। সব কিছু নথিপত্র অনুযায়ীই হয়েছে বলে দাবি তার।

এদিকে ফ্লাওয়ার মিল মালিক মোশাররফ হোসেন তালুকদারও বক্তব্যে অসংগতি দেখিয়েছেন। প্রথমে পুরো গম পাওয়ার কথা বললেও পরে স্বীকার করেন, কিছু গম এখনো পাননি। কতটুকু পেয়েছেন—তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।

অভিযানের সময় ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লিখিত বক্তব্য নেন এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখেন।

তিনি জানান, রেজিস্টারে কিছু অনিয়ম ধরা পড়েছে। তবে এর প্রকৃতি ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে—তা এখনো স্পষ্ট করেননি।