‘বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাহাড়ে বড় ধরনের জাতিগত দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে’

‘পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে শুধু অবাঙালিরাই নয় বরং বাঙালি জনগোষ্ঠীরাই সবচেয়ে বেশি অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।’

রফিকুল ইসলাম রকি, খাগড়াছড়ি

Location :

Khagrachari
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সংবাদ সম্মেলন
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের সংবাদ সম্মেলন |নয়া দিগন্ত

বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাহাড়ে পরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের জাতিগত দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেছেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইং চিং মং শাক।

তিনি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে শুধু অবাঙালিরাই নয় বরং বাঙালি জনগোষ্ঠীরাই সবচেয়ে বেশি অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। নির্বাচন এলেই একটি অস্থিরতা তৈরি হয়। এই নির্বাচনকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে ব্যবহার করে কিছু প্রার্থী বলে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করবে, কিছু প্রার্থী বলে চুক্তি বাতিল করবে। কিন্তু দীর্ঘ ২৮ বছরেও আমরা কোনো সুফল পাইনি।’

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে সচেতনতায় সম্প্রীতির বার্তার লিফলেট বিতরণ ও পথসভা কর্মসূচি নিয়ে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইং চিং মং সম্প্রতি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত সহিংসতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এগুলো মোটেও কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং প্রত্যেকটি পরিকল্পিত। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা অরাজকতার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।’

এসময় তিনি দুষ্কৃতিকারীদের আইনে আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘কোন সন্ত্রাসী বাহিনী বা সন্ত্রাসী দলগুলোর কোনো কর্মী ‍যদি অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায় আমরা তদেরকে নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে যাব, রাষ্ট্র আপনাদের সুযোগ দিবে সেই আহ্বান জানাব। আমাদের বিশ্বাস রাষ্ট্র আপনাদেরকে ফেলে দিবে না। আপনাদেরকে সুষ্ঠু-স্বাভাবিক নতুন জীবন দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

সংগঠনটির মুখপাত্র পাইশিখই মারমা বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার রক্ষক। একটি আন্তর্জাতিক চক্র তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।’

তিনি সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে পাহাড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীকে আরো শক্তিশালী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে হবে। রাষ্ট্রদ্রোহী ও সন্ত্রাসবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর পাশে থেকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে।’

এসময় মুখপাত্র লিখিত বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চৌদ্দটি সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির ঐক্যের বন্ধনে ৯ দফা দাবি জানান।

সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমি সমস্যার ন্যায়সঙ্গত সমাধান, সেনাবাহিনীর মর্যাদা রক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিকল্পিত বিভাজন রোধ, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, সমঅধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সদস্য শাহীন আলম, কেন্দ্রীয় সদস্য মো: নিজাম উদ্দিন, সংগঠক আইএইচ রাফিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।