গাজীপুর-২ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী করার ঘোষণা দিয়েছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মো: মুখলেসুর রহমান। জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের সব প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করতে চান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) চতর শিমুলতলী এলাকায় গিয়ে আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাকে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
মুখলেসুর রহমান গাজীপুরের সদর উপজেলার চতর শিমুলতলী এলাকার মো: আবুল মনসুরের ছেলে।
মুখলেসুর রহমান জানান, শিশু বয়সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসাতেও তার দৃষ্টিশক্তি আর ফেরেনি। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় চিকিৎসার সামর্থ্যও ছিল কম। পরিবারের অমতে গিয়ে তিনি স্কুলে ভর্তি হন। তখন থেকেই চকলেট ও খাতা-কলম বিক্রি করে নিজের পড়ালেখার খরচ বহন করতেন। তিনি ২০১১ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাশ করেন। তিনি টাঙ্গাইল শহরের বিবেকানন্দ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রায় এক বছর নয় মাস খণ্ডকালীন ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। সম্প্রতি তিনি ওই চাকরি হারান। সরকারি ও বেসরকারি কোনো ক্ষেত্রেই তার কাজের সন্ধান হয়নি। ফলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।
মুখলেসুর রহমান বলেন, ‘বঞ্চিত মানুষের মনের কষ্ট ও ব্যথা আমি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে পারি, কারণ আমি নিপীড়িত ও বঞ্চিতদেরই লোক। তাই এদেশের সাধারণ জনগণের জন্য আমার চেয়ে বেশি কেউ কাজ করতে পারবে না।’
নির্বাচন করতে গেলে যে বিপুল টাকা খরচ করতে হবে সেই টাকা কোথায় পাবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে কোনো টাকা নেই। তাই জামানতের টাকা মওকুফের জন্য আমি গাজীপুরের নির্বাচন অফিসে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে ঢাকা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলতে হবে। কিন্তু আমার পক্ষে একা ঢাকা গিয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব না। আর আমার ছেলে অনেক ছোট। স্ত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী, তার হাঁটতে কষ্ট হয়। ঢাকায় যাওয়া সম্ভব না হলে আমি আমার নির্বাচনের খরচের জন্য জনসাধারণের কাছে সাহায্য চাইবো।’
তার স্ত্রী নাজনীন আহমেদ জানান, বর্তমানে মুখলেসের কোনো চাকরি নেই। দীর্ঘসময় চেষ্টা করেও তিনি কাজ জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার উপলব্ধি যে এদেশে প্রতিবন্ধীদের কোনো অধিকার নেই। বাংলাদেশ সরকার ও দেশের কোনো রাজনৈতিক দল প্রতিবন্ধীদের পক্ষে কাজ করেনি। তাই তিনি জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে সর্বপ্রথম প্রতিবন্ধীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন।
মুখলেসুর রহমানের প্রতিবেশী মো: আব্দুল জব্বার বলেন, ‘মুখলেস একজন উচ্চশিক্ষিত নাগরিক। তার অধিকার আছে নির্বাচন করার। অশিক্ষিত নেতারা যদি সমাজের নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে মুখলেস ভাই অবশ্যই আরো ভালো কিছু করতে পারবে। আমরা তার ব্যাপারে আশাবাদী।’



