চুয়াডাঙ্গায় টানা দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশা ও মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার সাথে মৃদু বাতাস যোগ হওয়ায় জেলাজুড়ে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। দিনভর কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ দুপুরের মধ্যে সূর্যের দেখা মিলতে পারে। যদিও সকাল ৯টার পর কয়েক মিনিটের জন্য সূর্য উঁকি দিলেও তা দ্রুতই মিলিয়ে যায়।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সোমবার এটি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৭ শতাংশ। ঘন কুয়াশার কারণে আকাশ ছিল ধূসর।
শীত ও কুয়াশায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে খড়, পুরোনো কাপড় জড়িয়ে কিংবা খোলা স্থানে আগুন জ্বালাতে দেখা গেছে।
শীতের প্রভাবে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। তীব্র ঠান্ডার কারণে রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলকভাবে কম।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ঈদগাহপাড়ার রাজমিস্ত্রি কালাম হোসেন বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কাজে এসেছি। তীব্র ঠান্ডা ও বাতাসে শরীর কাঁপছে। তবুও পেটের দায়ে কাজে আসতে হচ্ছে। একদিন কাজ না করলে খাবার জোটে না।’
রিকশাচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘তীব্র শীতে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না, আয়ও কমে গেছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে আমাদের দুর্ভোগও বেড়েছে।’
দিনমজুর সাত্তার আলী বলেন, ‘সূর্যের দেখা না পাওয়ায় শীত বেশি পড়ছে। সকালে কাজে যাওয়া খুব কষ্টকর। তবুও সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে বের হতে হচ্ছে।’
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়াপর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সূর্যের আলো প্রায় নেই বললেই চলে।
তিনি বলেন, ‘আজ সূর্যের দেখা মিলতে পারে। তবে মেঘ কেটে গেলে তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। এছাড়া কয়েক দিনের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে।



