বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় আলু চাষিদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাজশাহী–বগুড়া মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী কৃষক মেহেদী হাবীব আব্বাসী (৪৮) জানান, গত প্রায় ১৬ দিন ধরে খরনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আলু চাষিরা হিমাগারে আলু নেওয়ার সময় তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
তার অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে আলু নিয়ে হিমাগারের উদ্দেশ্যে রওনা হলে বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছানোর পর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মোমিন ও শহীদসহ কয়েকজন তার আলুবাহী গাড়ির গতিরোধ করেন। এ সময় তারা প্রতি বস্তা আলুর জন্য ২০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ করেন এবং চাঁদা না দিলে আলু হিমাগারে নিতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে তাকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে প্রাণনাশের ভয়ও দেখানো হয়।
এ সময় বীরগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখে প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা সেখান থেকে দ্রুত সরে পড়েন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী বলেন, তিনি কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সাথে জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাজনুর ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম ও আপেলসহ কয়েকজন জানান, কৃষকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে না পেরে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেন। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এক কৃষক লিখিতভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান বলেন, ‘নির্ধারিত বাজার বা হাট ছাড়া সড়কে কোনো ধরনের চাঁদা আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। যারা এ ধরনের কাজ করেছে তারা কোনো বৈধ ইজারাদারও নয়।’



