আড়াই মাসে সীমান্তে দেড় শ’ কোটি টাকার চোরাইমাল উদ্ধার

‘সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন চারটি সেক্টরের ১৩টি ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা ১৭টি জেলার ৫৬টি উপজেলার মোট ৯২টি সংসদীয় আসনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার্থে নিয়োজিত থাকবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক বেইজ ক্যাম্প স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

Location :

Maulvibazar
প্রেস ব্রিফিং করছেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ
প্রেস ব্রিফিং করছেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের ১২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা থেকে গত আড়াই মাসে অস্ত্রসহ দেড় শ’ কোটি টাকার বেশি চোরাই মালামাল উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড- বিজিবি।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন তথ‍্য জানিয়েছেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১২০৪ কিলোমিটারের চারটি সেক্টরের (সিলেট, কুমিল্লা, শ্রীমঙ্গল ও ময়মনসিংহ) অধীনে ১৩টি ইউনিট চোরাচালান প্রতিরোধসহ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিজিবি উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের অধীনস্থ ইউনিটসমূহের নিরলস প্রচেষ্টায় এ পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মোট ৭২ জন আসামিসহ ১৬৪ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের চোরাই মালামাল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য এবং দু’টি বিদেশী পিস্তলসহ পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র, দু’টি ম্যাগজিন, দু’টি গোলাবারুদ ও ২৪টি ডেটোনেটর উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বিজিবি।

তিনি আরো বলেন, ‘সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন চারটি সেক্টরের ১৩টি ব্যাটালিয়নের বিজিবি সদস্যরা ১৭টি জেলার ৫৬টি উপজেলার মোট ৯২টি সংসদীয় আসনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার্থে নিয়োজিত থাকবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক বেইজ ক্যাম্প স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

লেফটেন্যান্ট কর্নেল বলেন, ‘নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নিমিত্তে বিজিবি কর্তৃক ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা বিস্তৃতভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সন্ত্রাসী, দল বা গোত্র ও অসাধু চক্র যাতে সক্রিয় হতে না পারে এবং সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিজিবির টহল তৎপরতা ও গোয়েন্দা নজরদারী ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির অন্য সদস্য ও মৌলভীবাজারের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা।