আমতলী হাসপাতালে পলেস্তারা ধসে পড়ায় রোগীদের বাইরে রাত যাপন

রোগী ও রোগীর স্বজনরা দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে বাইরে সরে যান। ওই রাতে রোগীরা আর হাসপাতালের বেডে ফিরে আসেননি। রাতে তারা হাসপাতালের বাইরে রাত কাটিয়েছেন।

আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা

Location :

Barguna
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনে ফাটল
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনে ফাটল |নয়া দিগন্ত

বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবনের বীমের পলেস্তারা ধসে পড়েছে। এতে হাসপাতালের অর্ধ শতাধিক রোগী আতঙ্কে হাসপাতাল ত্যাগ করে বাইরে রাত কাটিয়েছেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে স্বাস্থ্য বিভাগ আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করে। গত ৩৭ বছর ধরে ওই ভবনেই রোগীদের চিকিৎসাসহ সব কার্যক্রম চলে আসছে। শুক্রবার ভূমিকম্পে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরে। শনিবার রাতে হাসপাতালের দোতলায় একটি বীম ভেঙে পলেস্তারা রোগীর গায়ে পড়ে যায়। এতে হাসপাতালে বেডে থাকা অর্ধ শতাধিক রোগীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ও রোগীর স্বজনরা দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে বাইরে সরে যান। ওই রাতে রোগীরা আর হাসপাতালের বেডে ফিরে আসেননি। রাতে তারা হাসপাতালের বাইরে রাত কাটিয়েছেন।

শিশু ওয়ার্ডে থাকা রোগী তানিয়া আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালের বীম ধসে পড়ার খবর পেয়ে রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সব রোগী বেড ছেড়ে বাইরে চলে যান। এরপর সারা রাতে রোগীরা ফিরে আসেননি। আমিও আমার বাচ্চা নিয়ে বাইরে রাত কাটিয়েছি।’

রোগী মোর্শ্বেদা বলেন, ‘রাতে চরচর করে ভবন ভেঙে পড়তে দেখে আমি দৌড়ে বাইরে নেমে যাই। আর হাসপাতালের রোগীরাও নেমে যায়। ওই রাতে আর কেউ ফিরে আসেননি।’

রোগীর স্বজন মো: শাহীন বলেন, ‘রাতে হাসপাতালের সব রোগী আতঙ্কে বেড ছেড়ে বাইরে নেমে গেছেন।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ওয়ার্ড ইনচার্জ মোসা: মোর্শ্বেদা বেগম বলেন, ‘ভবনের ফাটা অংশ ভেঙে রোগীর গায়ে পড়েছে। আতঙ্কে শিশু ওয়ার্ডের রোগীসহ সব রোগী দৌড়ে বাহিরে বের হয়ে গেছে। এ বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: চিন্ময় হাওলাদার বলেন, ‘ভূমিকম্পে পুরাতন ভবনের অনেক স্থানে ফাটল ধরেছে। গতকাল রাতে দোতলায় বীম ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি বরগুনা সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হয়েছে।’

বরগুনা সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, ‘বিষয়টি জেনেছি। ঝুঁকিপূর্ণ হাসপাতাল ভবন সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ডিপিপি পাশ হলে দ্রুতই সংস্কার করা হবে।’