দীর্ঘ ছয় দশক পর রংপুরের পীরগঞ্জে দেশের প্রথম লোহার খনিতে নতুন করে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়নের ছোট পাহাড়পুর গ্রামের ভেলামারি পাথারে কূপ খননের মাধ্যমে অনুসন্ধান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুসন্ধান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের অধীনে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মহাপরিচালক মো: আব্দুল মান্নান, উপ-মহাপরিচালক প্রকৌশলী আলী আকবর ও পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা পপি খাতুন।
এ সময় শানেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেসবাহুর রহমান, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের খনিজসম্পদ বিভাগ ১৯৬৫ সালে শানেরহাট ও পার্শ্ববর্তী মিঠিপুর ইউনিয়নের ভেলামারি পাথার এলাকায় প্রথম এই লোহার খনি প্রাথমিকভাবে আবিষ্কার করে।
সেই সময়ে খনিটি শনাক্ত করার জন্য চারটি কূপ খনন করা হয়েছিল এবং পরে সেগুলোর মুখে কংক্রিট ঢেলে দেয়া হয়েছিল, যা আজও দৃশ্যমান।
পাক-ভারত যুদ্ধের পরপরই, ১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর, তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের খনিজসম্পদ বিভাগের একদল কর্মকর্তা স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে ছয় বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই লোহার খনি শনাক্ত করে।
তৎকালীন বিজ্ঞানীরা সেখানে লোহা আকরিকের উৎস নিশ্চিত করে ভেলামারি পাথারে খনির মুখে কংক্রিট ঢেলে দিয়ে চিহ্নিত করেন এবং প্রাথমিক জরিপ কাজ সম্পন্ন করেন।
এরপর বিভিন্ন সময় খনির কার্যক্রম শুরু করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা আর কার্যকর হয়নি।
অবশেষে, দীর্ঘ ৬০ বছর পর, শনিবার সেই খনিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষ উদার। যে কারণে মহান সৃষ্টিকর্তা এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ খনিজসম্পদ দান করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এখানে যে খনিজসম্পদ পাওয়া যাবে, তা উত্তোলনে সরকার সহায়তা করবে। এটি কোনো সাধারণ বিষয় নয়, এটি জাতির স্বপ্ন।’
স্বাধীনতার পর, বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে একটি কূপ খনন করে এবং ভূগর্ভস্থ অবস্থা জানার জন্য জরিপ পরিচালনা করে।
সর্বশেষ ২০২৩ সালে, একই উপজেলার নিকটবর্তী মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামে আরেকটি কূপ খনন করা হয়, সেখানে কিছু কিছু খনিজ উপাদানের সন্ধান পাওয়া যায়।
চলতি বছর প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার পর্যন্ত খনন কার্যক্রম চালানো হবে।
সূত্র : বাসস



