লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর জুড়ে কালবৈশাখীর ভয়াবহ তাণ্ডবে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রবল ঝড় ও দমকা হাওয়ায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘরবাড়ি, গাছপালা ও স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের সাথে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৯ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড় অল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র আকার ধারণ করে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় রামগতি ও কমলনগর উপজেলা। ঝড়ের তাণ্ডবে রামগতির আলেকজান্ডার ইউনিয়নের সবুজ গ্রামের সিকদারপাড়া জামে মসজিদটি প্রায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে ঝড়ের তীব্রতা অনেকেই টের পাননি। সাহরির পর ফজরের নামাজ আদায় করতে এসে মুসল্লিরা মসজিদটির ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পান। মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি বলেন, এমন ক্ষতির কথা তারা কল্পনাও করেননি। সকলের সহযোগিতা পেলে দ্রুত মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ পুনর্নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস দেন।
এদিকে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ কলেজের সামনে লক্ষ্মীপুর–রামগতি সড়কে ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের সাথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মনোহরী দাস (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, ঝড়ের সময় সড়কের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
এছাড়া কালবৈশাখীর প্রভাবে রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলায়ও বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
জেলা জুড়ে ঝড়ের এমন তাণ্ডবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।



