মহেশপুরে নগ্ন ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদা দাবি, যুবক আটক

দাবিকৃত টাকা না দিলে ছবি ও ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তার সন্তানকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়।

মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

Location :

Maheshpur
ব্ল্যাকমেইলের ঘটনায় আটক শরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎ
ব্ল্যাকমেইলের ঘটনায় আটক শরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎ |নয়া দিগন্ত

ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক গৃহবধূর ব্যক্তিগত নগ্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে থানা পুলিশ। এছাড়া আরো একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী জানায়, ভুক্তভোগী নারীর (২৭) স্বামী প্রবাসে থাকেন। স্বামীর সাথে যোগাযোগের জন্য নিজের মোবাইলে থাকা কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করতেন তিনি। গত ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে তার ব্যক্তিগত কিছু নগ্ন ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে সেগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। একইসাথে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, দাবিকৃত টাকা না দিলে ছবি ও ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও তার সন্তানকে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়। এতে ওই নারী মানসিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি তার স্বামীকে জানান। পরে তার স্বামী বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসেন।

পরে পুলিশের পরামর্শে অভিযুক্তদের ধরতে পরিকল্পনা করা হয়। সে অনুযায়ী শনিবার (২ মে) রাতে নির্ধারিত স্থানে টাকা দেয়ার কথা জানালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আলামপুর গ্রামের একটি স্থানে টাকা রাখতে বলেন। ভুক্তভোগী সেখানে টাকা সদৃশ কাগজ ভর্তি একটি ব্যাগ রেখে আসেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন (২৯) ওই ব্যাগ নিতে এলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চাঁদা দাবির বার্তা ও ভিডিওর প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিল্লাল হোসেন জানান, শরিফুল ইসলাম বিদ্যুৎ (২৮) নামের আরেক ব্যক্তি তাকে ওই ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করেন এবং ভুক্তভোগীর কাছে পাঠিয়ে টাকা আদায়ের নির্দেশ দেন। তবে ছবিগুলো কিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী মহেশপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্য আসামিকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ডিজিটাল মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায়ের বিষয়টি গুরুতর অপরাধ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।