স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরকে ভিন্ন অধিদফতরে একীভূত করার চেষ্টা বন্ধ এবং জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠনসহ আট দফা দাবিতে ২৫০ শয্যার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রতীকী শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা।
রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যালয়ের পাশে নার্স ও মিডওয়াইফরা একত্রিত হয়ে এ কর্মসূচি পালন করেন।
জানা যায়, ২৫০ শয্যার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে শাটডাউন কর্মসূচির ফলে রোগীদের মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে গাইনী ও প্রসূতি ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ, অস্ত্রোপচার কক্ষ, এসসিএএনইউ বিভাগ (নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্র), কার্ডিওলজি বিভাগ ওই কর্মসূচির আওতার বাইরে ছিল।
আবার যেসব ওয়ার্ডে শাটডাউন পালন করা হচ্ছে সেসব ওয়ার্ডের রোগীদের সেবার জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট জরুরি স্কোয়াড গঠন করে সেবা চালু রেখেছে।
হাসপাতালের সিনিয়র শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: আক্তার হোসেন বলেন, ‘নার্সদের শাটডাউনে ইনডোর সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্ন হচ্ছে। সকাল ১০টায় ওয়ার্ডে রাউন্ড দিতে গিয়ে নার্সদের পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। তাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মোসা: কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো মানা না হলে আগামী ২ ডিসেম্বর কমপ্লিট শাটডাউন অব্যহত থাকবে।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাছিমা বেগম বলেন, ‘স্বাস্থখাতে ৫০ শতাংশ নার্স, তাহলে আমাদের অধিকারের জন্য কেন আন্দোলন করতে হবে। আজকে দুই ঘণ্টার শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছি। আগামী ২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে আমাদের কঠোরভাবে শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: শাখাওয়াত হোসেন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, ২৫০ শয্যার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী সেবা নেয়। আজ হাসপাতালে প্রায় পাঁচ শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে বিভিন্ন ওয়ার্ডে।
আন্দোলনকারী নার্সদের দাবিগুলো হলো— ১. স্বতন্ত্র নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরকে ভিন্ন অধিদফতরে একীভূত করার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে, ২. জাতীয় নার্সিং কমিশন গঠন করতে হবে, ৩. অবিলম্বে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর কর্তৃক প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেটআপ ও ক্যারিয়ার প্যাথ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করতে হবে, ৪. নার্সদের পরবর্তী উচ্চতর পদগুলোতে (৯ম থেকে ৪র্থ গ্রেড) ভূতাপেক্ষভাবে পদ প্রমার্জনের মাধ্যমে পদোন্নতিসহ সুপার নিউমারারী পদোন্নতি দিতে হবে, ৫. অবিলম্বে নার্সিং সুপারভাইজার ও নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর পদগুলো ৯ম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে, ৬. ডিপ্লোমা নার্স-মিডওয়াইফদের সনদকে স্নাতক (পাশ) সমমান দিতে হবে এবং সকল গ্র্যাজুয়েট নার্স-মিডওয়াইফদের জন্য প্রফেশনাল বিসিএস চালু করতে হবে, ৭. বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা ও নার্সিং-মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়োগবিধি ও মানসম্মত বেতন কাঠামো তৈরি করতে হবে এবং অপ্রশিক্ষিত ও নিবন্ধনবিহীন ভুয়া নার্স-মিডওয়াইফদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ও ৮. নার্স-মিডওয়াইফদের ঝুঁকিভাতা প্রদানসহ নার্সদের ওপর জোরপূর্বক বিগত সরকারের চাপিয়ে দেয়া নার্সিং ইউনিফর্ম পরিবর্তন করতে হবে এবং শয্যা, রোগী ও চিকিৎসক অনুপাতে নার্স-মিডওয়াইফদের পদ সৃজন ও নিয়োগ দিতে হবে।



