সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে নতুন করে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নতুন কোনো হাম রোগী শনাক্ত না হলেও বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যে চলতি বছরের শুরু থেকে ল্যাব কনফার্ম হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১১ জনে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় নতুন করে কোনো হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে মোট ৬১১ জন ল্যাব কনফার্ম হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৩২২ জন, সিলেটে ২০১ জন, হবিগঞ্জে ৬১ জন (এর মধ্যে ২ জন রুবেলা) এবং মৌলভীবাজারে ২৭ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ভর্তি হওয়া ৭৮ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৯ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৩ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুইজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে একজন এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৭৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৪ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তিনজন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, সিলেট লায়ন্স হাসপাতালে দুইজন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪১ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে সাতজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো হামের টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।



