কসবায় কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দ্বীন ইসলাম (৩৫) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

Location :

Brahmanbaria
নিহত কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলাম (৩৫)
নিহত কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীন ইসলাম (৩৫) |নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দ্বীন ইসলাম (৩৫) নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দ্বীন ইসলাম ওই গ্রামের বাসিন্দা সফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে সংঘবদ্ধ একটি দল দ্বীন ইসলামকে তার নিজ বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বুড়ি নদী পার করে পাশের কুমিল্লা জেলার বাঙ্গরা থানার গাঙ্গেরকুট এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

পরিবারের সদস্যরা ৯৯৯-এ ফোন করলে কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বাঙ্গরা থানাকে অবহিত করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় হস্তান্তর করে। স্থানীয়দের সহায়তায় কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দ্বীন ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে ‘তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি’ নামে একটি পেজ পরিচালনা করতেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করতেন। পরিবারের দাবি, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য মো: আবদুল আওয়াল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল আওয়াল বলেন, দ্বীন ইসলাম ‘খারাপ প্রকৃতির লোক’ ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে কে বা কারা তাকে মারধর করে নদীর পাড়ে ফেলে গেছে—এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

এ ব্যাপারে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানা জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে কসবা থানায় মাদক, চুরি ও ডাকাতিসহ প্রায় ১০টি মামলা রয়েছে। হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।