সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গকে জীবন্ত করতে সর্ব প্রথমে কোদালের কোপ দিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তাকে জীবন্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত আমীর ডা: শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রংপুর মহানগরীর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে ১০ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন।
জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিস্তা-করতোয়াসহ সব নদী আল্লাহর দান। বিশাল আমানত। কিন্তু দশকের পর দশক এই নদীগুলোর প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। এগুলোকে জীবন দেয়া হয় নি। বাজেট বরাদ্দ হয়েছে। নদীর বালু উপরে উঠে না। টাকা পকেটে-পেটে চলে গেছে। এসব এখন নদী নয়, বিশাল মরুভূমি। এই নদীর জীবন ফেরাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘তিস্তা নদী জীবন ফিরে পেলে উত্তরবঙ্গ জীবন ফিরে পাবে। তাই তিস্তা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নাই। কার ভালো লাগলো কি লাগলো না এগুলা দেখার আমাদের সময় নাই। আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্ব দেন। আমরা কথা দিচ্ছি উত্তরবঙ্গে সর্বপ্রথম তিস্তায় কোদালের কোপ দিবো ইনশাল্লাহ। তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। এই তিস্তাকে জীবন দেয়ার মাধ্যমে পুরো উত্তরবঙ্গকে আমরা জীবন্ত করে তুলবো ইনশাল্লাহ। এখানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা যখনই বাস্তবায়ন হবে। তখন অনেকগুলো উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে।’
তিস্তা নিয়ে জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যে পুরো মাঠ স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে উঠে।
এসময় জামায়াত আমির আরো বলেন, ‘আফগানিস্তান পাকিস্তান ইরান নয়, জামায়াত ক্ষমতায় এলে গর্বের বাংলাদেশ বানাবো। আমরা বেকার ভাতা দিবো না। আমরা বেকারদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। নারীদেরকে রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে মর্যাদার পূর্ণ কাজ তুলে দিতে চাই। আমরা দেশ ও জাতিকে আর টুকরো হতে দেবো না। ৩ শর্তে সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করার ঘোষণাও দেন জামায়াত আমির। দুপুর থেকেই সমাবেশ স্থলে আসতে থাকেন ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা।
পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ ছাপিয়ে জনতার ঢল চলে যায় নগরীর প্রধান সড়ক, জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ ও আশেপাশের সকল সড়ক ও ফাঁকা জায়গায়। শেষে জামায়াত আমির রংপুরের ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এবং একটি আসনে আখতার হোসেনের হাতে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দিয়ে বলেন, যাহাই দাঁড়িপাল্লা তাহাই শাপলা কলি, যেখানে শাপলা কলি সেখানেই দাঁড়িপাল্লা।’
রংপুর মহানগর জামায়াত আমির এ টি এম আজমখানের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের এমপি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল, এনসিপির সদস্য সচিব রংপুর-৪ আসনের এমপি প্রার্থী আখতার হোসেন, রংপুর-৫ আসনের এমপি প্রার্থী গোলাম রব্বানী, ৬ আসনের এমপি প্রার্থী মাওলানা নুরুল ইসলাম, ১ আসনের এমপি প্রার্থী রায়হান সিরাজী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, মহানগর শিবির সভাপতি নুরুল হুদা, জেলা শিবির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ, রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি সুমন সরকার, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, ছাত্রশক্তির মহানগর আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি প্রমুখ।



