জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাগণ দেশ মাতৃকার গর্বিত সন্তান। কারণ তাদের সাহসী ভূমিকার কারণে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের রূহের মগাফেরাত কামনা করছি এবং সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা শ্রদ্ধা জানাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশপ্রেমিক জনতার ঐক্যের ফল। কিন্তু রাজনৈতিক সার্থে বিভক্তি সৃষ্টির মাধ্যমে একটি গোষ্টী দেশে স্বৈরাচারী একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিল। আবার কেউ কেউ পুরনো বয়ানের মাধ্যমে জাতিকে বিভক্তের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের ষড়যন্ত্র করছেন। এ ব্যাপারে জাতির সূর্যসন্তান দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আপনাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে চাই।’
তিনি শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মহানগর নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের ফুলেল সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শীরা সদস্য, সিলেট জেলা আমির ও সিলেট-১ আসনে (মহানগর ও সদর) জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান।
মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। মুক্তিযোদ্ধারা দেশ জাতির জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। আমরা পেয়েছিলাম একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল একটি শোষণবিহীন সাম্যের মানবিক বাংলাদেশ। কিন্তু বিজয়ের ৫৫ বছরেও আমরা বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। জামায়াত প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সুফল জাতির দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতে চায়। আমরা জাতির গর্বিত সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সমাজের সকল স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা জামাল পাশা, সিলেট জেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মুখলেছুর রহমান, মহানগর ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: মনাফ খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম নাজিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এখলাছুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো: কবির আহমদ, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সেক্রেটারি দেওয়ান মো: মঞ্জুর আহসান প্রমুখ।
জামায়াত নেতৃবৃন্দের মধ্য থেকে উপস্থিত ছিলেন মহানগর সহকারী সেক্রেটারি জাহেদুর রহমান চৌধুরী, জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মুকিত ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু প্রমুখ।



