মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের ত্রাণসামগ্রী দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণ করা ত্রাণসামগ্রীর ব্যাগে লেখা রয়েছে ‘অর্থবছর ২০২৪-২০২৫’। মেয়াদ শেষের পথে থাকা এসব পণ্য সামগ্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কোনো কোনো উপকারভোগী ত্রাণ হাতে পাওয়ার আগেই লবণের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আবার কারো ক্ষেত্রে ত্রাণ পাওয়ার মাত্র দুই দিন পরই লবণের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তেলের মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে কয়েক দিনের মধ্যে। ডাল, চিনি, হলুদ, ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়াসহ অন্যান্য পণ্যের মেয়াদও চলতি সেপ্টেম্বরেই শেষ হয়ে যাবে।
উপকারভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব পণ্যের কিছু প্যাকেট ছেঁড়া ও মসলা জমাট বাঁধা অবস্থায় দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ত্রাণ পাওয়া মানুষেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ৬ সেপ্টেম্বর ৫০ জনসহ ১২৫ জন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
প্রতিটি ব্যাগে ছিল ১০ কেজি চাল, এক কেজি তেল, লবণ, চিনি, ডাল, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়ার প্যাকেট এবং ১০০ গ্রাম করে ধনিয়া ও মরিচের গুঁড়ার প্যাকেট।
ত্রাণ পাওয়ার আগেই লবণের মেয়াদ শেষ
গত ২ সেপ্টেম্বর ত্রাণ পাওয়া মেলান্দহ পৌরসভার হাসনা বেগমের ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১ আগস্ট। অর্থাৎ ত্রাণ হাতে পাওয়ার দুই দিন আগেই লবণের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ওই ব্যাগে থাকা তেলের মেয়াদ শেষ হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। অন্য পণ্যগুলোরও চলতি মাসেই মেয়াদ শেষ হবে। একই দিন ত্রাণ পাওয়া পৌরসভার লিটন ও বারেকের ব্যাগেও একই ধরনের পণ্য রয়েছে বলে তাঁরা জানান।
গত ৬ সেপ্টেম্বর ত্রাণ পাওয়ার তালিকায় রয়েছেন মলিকাডাংগা এলাকার রত্না বেগম। তার ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ শেষ ৮ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ ত্রাণ পাওয়ার দুই দিন পরই লবণের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তেলের মেয়াদ শেষ হবে ১১ সেপ্টেম্বর। একই এলাকার জোসনা বেগমের ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ শেষ হবে ৯ সেপ্টেম্বর। আর হাজরাবাড়ি এলাকার হুরমুজের ব্যাগে থাকা লবণের মেয়াদ ৩১ আগস্টই শেষ হয়েছে। অর্থাৎ তিনি ত্রাণ সামগ্রীর মেয়াদোত্তীর্ণ লবণ পেয়েছেন। তার ব্যাগে থাকা তেলের মেয়াদ শেষ হবে ২০ সেপ্টেম্বর। ত্রাণ পাওয়া কয়েকজন জানান, ব্যাগের অনেক পণ্য পুরোনো ও জমাট বাঁধা। কিছু প্যাকেটও হালকা ছেঁড়া। দেখতে মনে হয় ইদুরে খেয়েছে।
রত্না বেগম বলেন, ‘লবণ জমাট বাঁধা ছিল। চিনি-ডালের প্যাকেটও হালকা ছেঁড়া ছিল। মেয়াদ না থাকলে তো খাওয়া যাবে না। এত আগের জিনিস এতদিন পরে দিলে মেয়াদ তো শেষই হবে।’
হাসনা বেগম বলেন, ‘আমরা মূর্খ মানুষ, মেয়াদ তো দেখতে পারি না। যেভাবে দিয়েছে, সেভাবেই বাড়িতে এনে রেখেছি। লবণের মেয়াদ যে শেষ হয়ে গেছে, তা জানতাম না। কিছুদিনের মধ্যে অন্য পণ্যের মেয়াদও শেষ হয়ে গেলে সেগুলো খেয়ে শেষ করা যাবে না।’
জোসনা বেগম বলেন, ‘অনেক দিন আগের মসলা ও চিনি দলা দলা হয়ে গেছে। যেভাবে দিয়েছে, সেভাবেই বাড়িতে নিয়ে এসেছি। এসব খেয়ে যদি কোন রোগ বালাই হয় তাই ভয়ে আছি।’
মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, ‘জুলাই মাসের প্রথম দিকে ত্রাণের বিষয়ে একটি চিঠি পেয়েছিলাম। এর কিছুদিন এক সপ্তাহ পরই ত্রাণসামগ্রী আসে। পরে অসহায় মানুষের তালিকা করে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।’
জামালপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: আব্দুল্লাহেল কাফি বলেন, ‘জুন ও জুলাই মাসে মন্ত্রণালয় থেকে ত্রাণ পেয়েছিলাম। পরে উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়। সেখান থেকে কীভাবে বিতরণ করা হয়েছে, তা জানি না। মেলান্দহের পিআইও বর্তমানে প্রশিক্ষণে রয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে জেনে পরে জানানো যাবে।’



