ফেনীতে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীকে শিবিরের সংবর্ধনা

সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ বলেন, ‘আমরা ২৪-এ ৫৬ শতাংশ কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করলাম। মেধার মূল্যায়ন না হওয়ায় আন্দোলন করলাম। এরপর আমরা নতুন একটি সরকার দেখলাম, যারা তরুণদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, বিপ্লবীরা রাজপথে নেমে এসেছিল, শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছিল এবং তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে ও নতুন সরকার গঠন হয়েছে। এ সরকারের সময়ও আমরা একই ধরনের কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছি। কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়।

ফেনী অফিস

Location :

Feni
ফেনীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান
ফেনীতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান |নয়া দিগন্ত

ফেনীতে এসএসসি ও দাখিলে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

মঙ্গলবার সকালে শহরের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ফেনী জেলা শাখার আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ।

সংগঠনের জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।

এছাড়া সংগঠনের জেলা সেক্রেটারি আশরাফুল হক সোহেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় স্পোর্টস সম্পাদক মো: মুশফিকুর রহমান।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ছাগলনাইয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো: মহিউদ্দিন ও শাহীন একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাফিয়া বিনতে ইলিয়াস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ বলেন, ‘আমরা ২৪-এ ৫৬ শতাংশ কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করলাম। মেধার মূল্যায়ন না হওয়ায় আন্দোলন করলাম। এরপর আমরা নতুন একটি সরকার দেখলাম, যারা তরুণদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি, বিপ্লবীরা রাজপথে নেমে এসেছিল, শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে এসেছিল এবং তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে ও নতুন সরকার গঠন হয়েছে। এ সরকারের সময়ও আমরা একই ধরনের কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছি। কিছুদিন আগে আমরা দেখলাম এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়।

তিনি বলেন, সরকার হঠাৎ বললো এটা এনটিআরসি করবে না। বরং এটা স্কুল-কলেজ কমিটি ঠিক করবে। একজন মেধাবী মেধার সাক্ষর রেখে যোগ্যতা অর্জন করেছে। সে যখন যোগদান করতে যাবে কমিটির অধীনে। আবার সে কমিটিতে বসে আছে একদল লোক টাকা খাওয়ার জন্য। সেখানে অনেকে এইচএসসি পাস করে না এ ধরণের লোকে ভরপুর এবং সেখানে মেধাবীদের কীভাবে আটকানো যায় এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া পিএসসির চেয়ারম্যানও পরিবর্তন হতে দেখলাম। ওই চেয়ারম্যান অনেকগুলো সংস্কার নিয়ে এসেছিলো, কিন্তু বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আমরা শুনতে পাচ্ছি নিয়োগে ভাইভা ৫০ শতাংশ ও লিখিত ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। এভাবে তরুণদের ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা আসলে আমাদের জন্য দূর্ভাগ্যজনক।’

প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন ‘দুনিয়ার সামান্য সুবিধার কাছে তোমরা মাথা নত করবে না। দুনিয়ায় কোনো লোভের কাছে তোমরা নত হবে না। দুনিয়ার কোনো মোহের কাছে তোমরা নত হবে না। তোমরা দেশ ও জাতির জন্য কাজ করে যাবে। দেশের জন্য নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিবে। আমরা অতীতে কখনো কারো কাছে বা কোনো শক্তির কাছে মাথা নত করে, এখন তোমরাও সে পথ ধরে কারো কাছে নত হবে না। নিজেদের সময় এখন কাজে লাগাতে হবে তোমাদের। আমাদের ইসলামের সুমহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দেশ ও জাতির জন্য তো কাজ করতে হবে।’

এ সময় শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাবেক জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলালসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।