মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা ও মতলব দক্ষিণ উপজেলাবাসীর জন্য আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি এক শোকাবহ দিন। ২০০৫ সালের এই দিনে ঢাকার সদরঘাট থেকে মতলবগামী এমভি মহারাজ লঞ্চ কালবৈশাখী ঝড়ে আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাগলা এলাকায় উল্টে পানিতে নিমজ্জিত হয়। মর্মান্তিক ওই ট্রাজেডির ২১ বছর পূর্ণ হলো আজ।
দুর্ঘটনায় প্রায় দু’ শতাধিক শিশু, নারী ও পুরুষ প্রাণ হারান। লঞ্চটিতে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ ছাড়াও চাঁদপুর, শরীয়তপুর, ভোলাসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রী ছিলেন। নিহত স্বজনদের কান্না আজও থামেনি। বছর ঘুরে এ দিনটি ফিরে এলে শোকের স্মৃতি নতুন করে নাড়া দেয় স্বজনদের হৃদয়ে।
নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন— নারায়ণপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ও তার মেয়ে মতলব কচি-কাঁচা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিলাত জাহান অর্থি, শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই মাস্টার, আইসিডিডিআরবির ডা: মো: মাসুম, প্রকৌশলী ফারুক দেওয়ান, সার ব্যবসায়ী ইয়াসিন মৃধা, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ফারুক দেওয়ানসহ পরিবারবর্গ, মফিজুল ইসলাম, ছোট খোকন, বড় খোকন, শাহআলম, টিপু শিকদার, আবু হানিফ, ইয়াছিন আরাফাত, বাদল হোসেন, টিপু মুন্সি, সুমন মিয়াসহ আরো অনেকে।
দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া মতলব উত্তর উপজেলার লুধুয়ার তোফায়েল পাটোয়ারী বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি থেকে বেঁচে আসা সম্ভব না। আল্লাহর রহমতেই বেঁচে আছি। এই ঘটনার বর্ণনা দেয়ার মতো ভাষা নেই।’
যেসব লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি, সেগুলোর ছবি তুলে বেওয়ারিশ হিসেবে মতলব দক্ষিণের ঢাকিরগাঁও রিয়াজুল জান্নাত কবরস্থান এলাকায় দাফন করা হয়। এখনো দূরদূরান্ত থেকে স্বজনরা এসে কবর জিয়ারত করে প্রিয়জনদের স্মরণ করেন।
প্রতিবছরের মতো এবারো মিলাদ, মাহফিল, দোয়া ও শোকসভায় দিনটি পালন করছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নদীপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন শোক বহন করতে না হয়।
১৯ ফেব্রুয়ারি মতলববাসীর কাছে শুধু একটি তারিখ নয়; এটি এক বেদনাবিধুর স্মৃতি, যা সময়ের সাথে মুছে যায়নি; বরং প্রতি বছর ফিরে এসে নতুন করে শোকের স্মরণ করিয়ে দেয়।



