জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘ফুয়েলিং কার্ড’ সিস্টেম চালু করাতে সিরাজগঞ্জের তেল পাম্পগুলোতে স্বস্তি ফিরেছে। একজন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী তার চাহিদা মতো সাপ্তাহিক রেশনিং সিস্টেমে অনায়াসে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারছেন।
এতে ভোগান্তি কমেছে তেলের পাম্প মালিক কর্মচারীদের এবং দাপট কমেছে তেল চোরাকারবারিদের। তেলের জন্য হুমড়ে পড়া জনরোষে হিমশিম খাওয়া পুলিশ প্রশাসনের লোকজন কিছুটা স্বস্তিতে আছেন।
ইরানের সাথে আমেরিকা ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে তেল সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জের তেল পাম্পে তেল সংগ্রহে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। বিশাল লাইনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মোটরসাইকেল ও অন্যান্য গাড়ি চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে পাম্প মালিক-কর্মচারীদের সাথে কথা-কাটাকাটি, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পাম্পগুলোতে পুলিশ বসানো হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনও প্রথম দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়।
সারেজমিনে পাম্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাম্প এলাকার উঠতি বয়সের যুবকরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে জ্বালানি তেল চোরাকারবারির কাজে জড়িয়ে যায়।
সিরাজগঞ্জ শহরের মেসার্স পার্ক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা পেশি শক্তি ব্যবহার করে একই মোটরসাইকেল নিয়ে বারবার তেল নিচ্ছে। মোটরসাইকেলে তেল ভরেই পাশে গিয়েই কালোবাজারে উচ্চ মূল্যে তেল বিক্রি করে আবার পাম্পে এসে বারবার তেল নেয়ার দৃশ্য ধরা পরে। তেলের পাম্পগুলোতে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়েও অবস্থার তেমন একটা উন্নতি করা যায়নি।
এদিকে, চোরাকারবারিরা দেদারসে তেল সংগ্রহ করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে এবং খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে দেখা যায়। মোড়ে মোড়ে এমনকি হাট-বাজারে এসব চোরাই তেল উচ্চমূল্যে কেনা-বেচা হয়। রেশনিং পদ্ধতিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে চোরা কারবারিদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যের পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল সংগ্রহ করে নেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেসার্স পার্ক ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, তেল চোরা কারবারিদের হাতে চলে যাচ্ছে। আমরা দেখেও কিছু করতে পারছি না। পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
জেলা প্রশাসনের লোকজন ঘটনা আঁচ করতে পেরে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠক করে ফুয়েলিং কার্ড সিস্টেমে তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যে সমস্ত যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে তারাই কেবল এই ফুয়েলিং কার্ড পাচ্ছেন।
এদিকে, যানবাহনের বৈধ কাগজপত্র ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় বেশিরভাগ গাড়ির চালক বা মালিক ফুয়েলিং কার্ড পাচ্ছে না। ফলে বিপাকে পড়েই কাগজপত্র বৈধ করতে বিআরটিসিতে ভিড় করছেন চালকরা।
ফুয়েলিং কার্ড পাওয়ার জন্য দেদারসে রেজিস্ট্রেশন কাজ চলছে বিআরটিসিতে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হচ্ছে সরকারের। একইসাথে শৃঙ্খলা ফিরেছে তেলের পাম্পগুলোতে।
এদিকে ফুয়েলিং কার্ড ছাড়া তেল পাচ্ছে না বিধায় পামগুলোতে আর ভিড় দেখা যাচ্ছে না। এতে স্বস্তি মিলেছে পাম্প মালিক-কর্মচারীদের। স্বস্তি মিলেছে বৈধ কাগজপত্রধারী মোটরসাইকেল ও যানবাহন মালিক-শ্রমিকদের।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুন খান বলেন, জ্বালানি সঙ্কট না থাকলেও চোরা কারবারিদের জন্য এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ফুয়েলিং কার্ড ইস্যু করা হয়েছে যাতে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসে।



