দফায় দফায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেটে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে মহানগর সহকারি সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহ ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বক্তব্য রাখেন।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নগর কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান এলাহী, আমির হোসাইন, ড. আ ম ম মসরুর হোসাইন, সদরঘাট থানা আমির এম এ গফুর, চকবাজার থানা আমির আহমেদ খালেদুল আনোয়ার, পাঁচলাইশ থানা আমির ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমি, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ, চট্টগ্রাম-১১ আসনের জামায়াত প্রার্থী শফিউল আলম, বিশিষ্ট চিকিৎসক নেতা ডা: আবু নাছের প্রমুখ আরো উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তৃতায় নজরুল ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ বা সংসদীয় কমিটিতে কোনো আলোচনা ছাড়াই বাজেট ঘোষণার আগে সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে একটি খারাপ নজির স্থাপন করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে জনদুর্ভোগ বহুগুণে বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশেরও বেশি। এ অবস্থায় ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৬.৭ শতাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সাথে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকায় পৌঁছানোয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।
নজরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বাজারে মোটা চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং সরু চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট ও ডালের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। মাছ, মাংস, ডিম ও আলু ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে কৃষিতে উৎপাদন খরচ ও গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন ব্যয় আরো বাড়বে,
যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা সৃষ্টি করবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির ফলে চাল, ডাল, ভোজ্য তেলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরো বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের খেসারত দিতেই বার বার জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হতো না।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জামাল খান এলাকায় প্রেস ক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়।



