আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত শুরু হলো হাঁড়িভাঙ্গা আমের

প্রতি মণ হাঁড়িভাঙ্গা আম ১৪০০-১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবার শিলাবৃষ্টিতে আম ঝরে যাওয়ায় ফলন কমে গেছে ৩০ ভাগ। তাই দাম বৃদ্ধি না হলে লোকসানের মুখে পড়বেন চাষিরা।

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur
গাছ থেকে আম পেড়ে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন রংপুর জেলা প্রশাসক
গাছ থেকে আম পেড়ে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন রংপুর জেলা প্রশাসক |নয়া দিগন্ত

আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত কার্যক্রম শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী জিআই পণ্য হাঁড়িভাঙ্গা আমের। সোমবার (১৫ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে বাগান থেকে হাঁড়িভাঙ্গা আম ছিড়ে বাজারজাত কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল আমিন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, ইউএনও মোহাম্মদ রাসেল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হেকিম, কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ কে এম রাকিবুল হাসান ফেরদৌসসহ স্থানীয় বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

পরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাঁড়িভাঙ্গা আমচাষি ও ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। তিনি হাঁড়িভাঙ্গা আমের রাজধানী পদাগঞ্জ হাট পরিদর্শন করেন এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন।

এ সময় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বাজারজাতে রাস্তাঘাটের সমস্যা, ব্যাংক সুবিধা না থাকা, হাটের সেড, ওয়াশ ফেসিলিটি, হিমাগার স্থাপন এবং জিআই পণ্য হিসেবে বিদেশে রফতানির করার সুযোগ সৃষ্টির দাবি তুলে ধরেন।

পরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) রুহুল আমিন জেলা প্রশাসকের অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে হাঁড়িভাঙ্গা আমের রফতানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাটের সংস্কার ও নির্মাণ, ওয়াস ব্লক তৈরি, ব্যাংকের শাখা স্থাপন, ম্যাংগো ট্রেনের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রথম দিনে বিপুল পরিমাণ হাঁড়িভাঙ্গা আমের আমদানি দেখা যায় পদাগঞ্জ হাটে। তবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে খুব একটা বিক্রি জমে ওঠেনি। উদ্বোধনের পর শুরু হয় পুরোদমে বিক্রি।

বিক্রেতারা জানান, প্রতি মণ হাঁড়িভাঙ্গা আম ১৪০০-১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবার শিলাবৃষ্টিতে আম ঝরে যাওয়ায় ফলন কমে গেছে ৩০ ভাগ। তাই দাম বৃদ্ধি না হলে লোকসানের মুখে পড়বেন চাষিরা।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সিরাজুল ইসলাম জানান, এবার যেহেতু আমের ফলন একটুখানি কম হয়েছে। তবে আকার বড় হয়েছে। সে কারণে এবার ন্যায্য দাম পাবে কৃষকরা। শুরুর দিকে সামান্য দাম কম হলেও প্রতিদিনই আমের দাম বাড়বে বলেও আশা করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।