কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িসহ সাতটি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নারী ও পুরুষসহ কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন। এর আগে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের সিংরাইশ মাস্টার বাড়ি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংরাইশ গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে মো: সবুজের সাথে একই এলাকার আমির ইসলামের ভাতিজা রেজাউল করিমের পূর্ব বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে রেজাউল করিমকে যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া মারধর করেন। এরই জের ধরে শুক্রবার রাতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষ চেষ্টা চালালে যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া দলবল নিয়ে ওই এলাকায় দফায় দফায় হামলা চালিয়ে সাতটি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে। সেইসাথে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনা ঘটে।
এ সময় সংঘর্ষে সাতজন আহত হন। আহতরা হলেন— ওই এলাকার হাবিব উল্লাহর ছেলে রেজাউল হক, হাফিজুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন, আহসান মিয়ার ছেলে মো: রেহান, রেজাউল হকের ছেলে মো: রিফাত, একই এলাকার সৌদি প্রবাসী আরিফ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, ফাতেমা আক্তার।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া দল ক্ষমতায় থাকাকালিন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। তার অত্যাচারে তৎকালিন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বাড়িঘরে থাকতে পারেনি। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বাচ্চু মিয়া জামায়াতকে সমর্থন করে দলবল নিয়ে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে শুরু করেন।
শুক্রবার রাতে তার নেতৃত্বে ওই গ্রামে দফায় দফায় হামলা চলে এবং বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই সময় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। রাত ৮টায় সংঘর্ষ শুরু হলেও দফায় দফায় সংর্ঘষটি রাত ১২টা অতিক্রম করে। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযোগের বিষয়ে যুবলীগ নেতা বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘শুক্রবার রাতের ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। তাছাড়া আমি কখনো যুবলীগ করিনি।’
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


