ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে পর্যটকদের ঢলে আবারো প্রাণ ফিরে পেয়েছে পাহাড়-হ্রদের শহর রাঙ্গামাটির পর্যটন কেন্দ্রগুলো।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পর্যটন ঝুলন্ত সেতু, কাপ্তাই হ্রদ, সুবলং ঝর্ণা, আরণ্যক রিসোর্ট, ভার্গী লেক, পলওয়েল পার্ক, রাঙাদ্বীপ রিসোর্ট ও মায়াবী দ্বীপসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। পর্যটকদের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যও।
পাহাড়, হ্রদ ও সবুজ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গামাটি বরাবরই পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। দীর্ঘদিনের কর্মব্যস্ততা ও শহুরে যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি খুঁজতে ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাঙ্গামাটিতে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। ছুটির শুরু থেকেই জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।
‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ হিসেবে পরিচিত পর্যটন ঝুলন্ত সেতু ও আসামবস্তি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ব্রিজের ওপর সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়।
কেউ প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ পরিবার নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন। পাহাড় আর হ্রদের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই পর্যটনকেন্দ্র এখন দর্শনার্থীদের পদচারণায় সরগরম।
রাঙ্গামাটিতে আগত পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণ। ফলে সকাল থেকেই পর্যটকরা ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে হ্রদের বুকে ভ্রমণে বের হন। নৌপথে তারা ঘুরে দেখছেন সুবলং ঝর্ণাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। পর্যটকদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌযান ব্যবসায়ীরাও।
পর্যটকদের আগমনের প্রভাব পড়েছে জেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট খাতেও। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ আবাসিক হোটেলে বেড়েছে বুকিং। পর্যটকদের সেবাদানে প্রস্তুত রয়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছুটির বাকি দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়বে।
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। আরণ্যক, পলওয়েল পার্ক, রাঙাদ্বীপ রিসোর্ট ও মায়াবী দ্বীপসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে বাড়ানো হয়েছে সেবার মান। একই সাথে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ঈদের এই ছুটিতে প্রায় ২০ হাজার পর্যটক রাঙ্গামাটি ভ্রমণ করবেন। তাদের মতে, পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমন শুধু পর্যটন খাতকেই নয়, বরং পরিবহন, আবাসন, খাদ্য ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ স্থানীয় অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে চাঙ্গা করে তুলবে।
দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের এমন সরব উপস্থিতিতে আশাবাদী রাঙ্গামাটির পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাদের প্রত্যাশা, ঈদের ছুটির এই ইতিবাচক ধারা সামনের পর্যটন মৌসুমেও অব্যাহত থাকবে এবং পাহাড়-হ্রদের শহর রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্প নতুন গতি পাবে।



