দেখার হাওরের বাঁধ রক্ষায় কৃষকদের প্রাণপণ চেষ্টা, তবু বোরো ধানের ক্ষতি

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে হাওরের গোজাউনি বেরিবাঁধে ভাঙন দেখা দিলে প্রবল বেগে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে আশপাশের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

Location :

Sunamganj

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের গোজাউনি ও মেলাউনি (গুংগিয়া) অংশের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশের ঘটনায় হাজারো কৃষকের প্রাণপণ চেষ্টায় প্রায় ৯ হাজার হেক্টর বোরো জমির ফসল রক্ষা পেয়েছে। তবে ইতোমধ্যে কিছু নিচু জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে হাওরের গোজাউনি বেরিবাঁধে ভাঙন দেখা দিলে প্রবল বেগে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে আশপাশের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল প্রায় ১০টার দিকে জনবসতি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে গোজাউনি বাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়। এতে জয়কলস, পাগলা ও পূর্ব পাগলা এলাকার জমিতে দ্রুত পানি প্রবেশ করতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে উঠলে কৃষকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে হাজারো কৃষক বাঁশ, টুকরি, কোদালসহ বিভিন্ন উপকরণ নিয়ে ভাঙনস্থলে ছুটে আসেন। টানা ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার প্রাণান্তকর চেষ্টায় তারা ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এতে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে। তবে ভাঙা অংশ দিয়ে ঢোকা পানিতে ইতোমধ্যে কিছু নিচু জমি প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত উতারিয়া বাঁধ এখন তাদের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বাঁধের কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে না পেরে দরিয়াবাজ ও মেলাউনি হাওরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ফলে কিছু জমির ফসল ইতোমধ্যে ডুবে গেছে।

সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকার অনেক জমি দেখার হাওরে রয়েছে। ধান ঘরে তোলা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী জমিরুল ইসলাম মমতাজ বলেন, “কৃষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ না করলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেত। ইতোমধ্যে কিছু জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, দেখার হাওরে মোট জমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর, যার মধ্যে আবাদযোগ্য ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। অতিবৃষ্টির কারণে ইতোমধ্যে জাওয়া, শেয়ালমারা ও গুমরাসহ কয়েকটি এলাকায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি বিভাগ আরো জানায়, এবার সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হবে। এরই মধ্যে আগাম জাতের প্রায় ২৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, হাওরের জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা না গেলে নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হতে পারে এবং এতে ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বাঁধটি তাদের আওতাভুক্ত নয়; কৃষকেরাই প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের বাঁধ নির্মাণ ও অপসারণ করে থাকেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, বাঁধটি পাউবোর ফসল রক্ষা প্রকল্পের আওতায় ছিল না। আগাম কোনো তথ্য না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে প্রশাসন কৃষকদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।