সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র জাফলংকে পৌরসভায় উন্নীত করতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে আধা সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
গত ২৫ মার্চ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে এই চিঠি দেওয়া হয়।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর আধা সরকারি পত্রের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে জাফলংয়ের সকল পরিসংখ্যান জানাতে জেলা প্রশাসনকে পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
আধা সরকারি পত্রে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত জাফলং দেশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। স্থানীয় পর্যটনের বিকাশ, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ, নগর সুবিধা ও জনসেবার সম্পৃক্তকরণ এবং পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়নে জাফলংকে পৌরসভায় উন্নীত করা জরুরি। জাফলং পৌরসভায় উন্নীত হলে স্থানীয় মানুষেরও জীবনমানের উন্নয়ন হবে। বিষয়টি অতীব জরুরিভাবে বিবেচনার অনুরোধ করছি।

পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝর্ণার স্বচ্ছ ধারা, সবুজে মোড়া চা বাগান আর নীল জলের পিয়াইন নদী- এসবের মিলনেই গড়ে উঠেছে ‘প্রকৃতি কন্যা’ জাফলং। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার এই মোহনীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রতিদিনই অসংখ্য ভ্রমণপিপাসুদের টেনে আনে অমোঘ ইশারায়।
পাহাড়, নদী, ঝর্ণা আর চা বাগানের সুমধুর সমন্বয়ে জাফলং আজ শুধু একটি ভ্রমণকেন্দ্র নয়, বরং প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অমলিন অভিজ্ঞতার নাম। এখানে এলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন আপন হাতে সাজিয়ে দিয়েছে এক টুকরো স্বর্গ।
প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণাধারা এসে মিশেছে এখানকার পিয়াইন নদীতে। সেই নদীর বুক জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় পাথর। পর্যটকরা সেসব পাথরের ওপর বসে বা শান্ত স্রোতের জলে পা ডুবিয়ে হারিয়ে যান এক অদ্ভুত শান্তির রাজ্যে।

প্রতিদিনই দেশী-বিদেশী পর্যটকরা জাফলং ভিড় করেন। ছুটির দিনে কিংবা বিশেষ উৎসবে এখানে উপচে পড়া ভিড় জমে, যেন প্রকৃতির কোলে মানুষের মিলনমেলা বসে যায়।
কিন্তু সড়ক ব্যবস্থা অনুন্নত ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকায় জাফলং বেড়াতে এসে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হন পর্যটকরা। জাফলং পৌরসভায় উন্নীত হলে নাগরিক সুবিধা বাড়বে। এতে পর্যটকরা উন্নত সেবা পাবে। তাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন কেন্দ্রের বিকাশে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এই উদ্যোগে দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে, মন্ত্রীর সুপারিশের প্রেক্ষিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত চিঠিতে সিলেট জেলা প্রশাসক কে জাফলংয়ে প্রস্তাবিত পৌরসভার সার্বিক অবস্থান, জনসংখ্যা, আয়ের উৎসসহ সকল পরিসংখ্যান জানাতে একটি পরিপত্র জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসন সেখানে পরিবেশবান্ধব টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনাসহ অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’



