যশোরে বিএনপি নেতাকে হত্যা করিয়েছে তার জামাতা : পুলিশ

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন খুন হন শহরের শংকরপুর ইসাহাক সড়কে। ঘটনা পর থেকে পুলিশের একাধিক টিম সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ভবনে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করে। এরপর নেপথ্যের কারিগর হিসেবে নিহতের মেয়ের জামাই বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরকে চিহ্নিত করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এম আইউব, যশোর অফিস

Location :

Jashore
যশোরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত বিএনপি নেতার মেয়ের জামাই ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
যশোরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত বিএনপি নেতার মেয়ের জামাই ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ |নয়া দিগন্ত

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নির্দেশদাতা তার মেয়ের জামাই বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দু’জনের যোগসাজসে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম আটক দু’জনসহ অজ্ঞাত ছয়-সাতজনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

রোববার (৪ জানুয়ারি) যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের এ তথ্য দিয়েছেন।

গ্রেফতার বাসেদ আলী পরশ নিহত আলমগীর হোসেনের মেয়ের জামাই ও যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বিএনপি নেতা শংকরপুর ইসাহাক সড়কের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুলুর ছেলে। অন্যদিকে আসাবুল ইসলাম সাগর একই এলাকার মরহুম মতিন দারোগার ছেলে।

আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় আটক বাসেদ আলী পরশ ও আসাবুল ইসলাম সাগরকে আজ রোববার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত পরে দু’জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন খুন হন শহরের শংকরপুর ইসাহাক সড়কে। ঘটনা পর থেকে পুলিশের একাধিক টিম সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ভবনে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করে। এরপর নেপথ্যের কারিগর হিসেবে দু’জনকে চিহ্নিত করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, আসামি পরশ নিহতের জামাই। তাদের মধ্যে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। পরশের স্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। তাদের একসময় বিচ্ছেদ হয়। পরে সামাজিকভাবে সেই বিরোধ মীমাংসা করা হয়। নিহত আলমগীর হোসেনের সাথে জমিজমা নিয়ে জামাই পরশের বিরোধ ছিল। মাসখানেক হলো পরশের স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। এরপর থেকে পরশ নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিল।

এছাড়া, আসামি আসাবুল ইসলাম সাগর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়িতে হামলা করে। জাহাঙ্গীর হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। হামলার সময় নিহত আলমগীর হোসেন তাকে বাধা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে সাগর নিহত আলমগীর হোসেনকে নানাভাবে হুমকি দেন। এমনকি ফেসবুক মেসেঞ্জারে হুমকির বিভিন্ন এসএমএস পাঠায়। ফলে সাগর ও পরশের যোগসাজসে ভাড়াটিয়া খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে।

পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম এজাহারে এই দু’জনের কথা উল্লেখ করেছেন। এ কারণে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মূল খুনি কারা ছিল তা বেরিয়ে আসবে। পুলিশ সে লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং অস্ত্র উদ্ধারে তৎপর রয়েছে।

এদিকে, যশোর ৪৯ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর যশোর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আলমগীর হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা যাতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে সে লক্ষ্যে যশোর সীমান্তে ব্যাপক নজরদারি ও অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একইসাথে সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, যে সকল সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নেই সেসব সীমান্তে অধিক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার শহরের শংকরপুর ইসাহাক সড়কে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন। মেডিক্যাল কলেজ গেটের নিজ অফিস থেকে বাড়ির ফেরার পথে ইসহাক সড়কের হুদা মেমোরিয়াল অ্যাকাডেমির গেট ও সাবেক কাউন্সিলর শাহিদ হোসেন নয়নের অফিসের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছালে পেছন থেকে মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা আলমগীর হোসেনের মাথায় দু’টি গুলি করে।