স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্নিচার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করার লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং পরামর্শক নিয়োগের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে।’
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেটে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের পর সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পদ সৃজনের কাজও এগিয়ে চলছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে।’
চিকিৎসক ও নার্স সঙ্কট নিরসনে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে সাত হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ দেয়া হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত পরিশ্রম করে জনগণকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।’
হাসপাতালে চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে পুলিশ ক্যাম্প বাড়ানোর পাশাপাশি আনসার ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘চিকিৎসক ও রোগী পরস্পরের প্রতিপক্ষ নন। উভয়ের সহযোগিতার মাধ্যমেই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।’
সিলেটে শিশু হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটে একটি শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকার ঘোষিত বিভিন্ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের চিকিৎসাসেবা আরো সহজলভ্য ও মানসম্মত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।’
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান ও বড় ধরনের রূপান্তরের ঘোষণা দেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, ‘সিলেটে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধিতে তিনটি প্রধান প্রকল্প চালুর কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবে শিগগিরই একটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ও ৪৫০ শয্যাবিশিষ্ট অসম্পূর্ণ থাকা ক্যান্সার ইনস্টিটিউটটি শিগগিরই প্রস্তুত করে চালু করা হবে। ক্যান্সার ইনস্টিটিউটের বাকি কাজ শিগগিরই শেষ করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া পূর্বঘোষিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি চালুর প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।’
পাটমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সিলেটে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও বিসিকের নানা উদ্যোগের সাথে সাথে এই স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলো চালু হলে পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় এক বিরাট ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ডা: জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা: মোস্তফা তৌফিক আহমেদ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন ডা: মো: নাসির উদ্দিনসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মী।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন।



