৫০ হাজার টাকা যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় স্বামী উজ্জ্বল তালুকদার দুই সন্তানের জননী স্ত্রী সানজিদা আক্তারকে (২৫) শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মৃত সানজিদার বাবা আবু বকর তালুকদার এমন অভিযোগ করেছেন। স্বামী উজ্জ্বল তালুকদারের দাবি তার স্ত্রী জেদ করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। এদিন বিকেলে মৃতের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আমতলী উপজেলার গেরাবুনিয়া গ্রামে।
জানা গেছে, ২০২২ সালে পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার পশুরবুনিয়া গ্রামের আবু বকর তালুকদারের মেয়ে সানজিদাকে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার গেরাবুনিয়া গ্রামের কাবিল তালুকদারের ছেলে উজ্জ্বল তালুকদারের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে নানাভাবে অত্যাচার করে আসছিলেন জামাতা উজ্জ্বল—এমন অভিযোগ শ্বশুর আবু বকর তালুকদারের।
সপ্তাহখানেক আগে ব্যবসা করবেন বলে স্ত্রী সানজিদাকে তার বাবার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক এনে দিতে বলেন। এ টাকা এনে দিতে অস্বীকার করেন স্ত্রী সানজিদা। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে বিরোধ চলে আসছে। মঙ্গলবার রাতে এ টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। পরে শ্বাসরোধে স্ত্রী সানজিদাকে হত্যা করা হয়। পরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়—এমন অভিযোগ বাবা আবু বকর তালুকদারের।
বুধবার বিকেলে জামাতা তার শ্বশুর আবু বকর তালুকদারকে খবর দেন তার মেয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
খবর পেয়ে ওই দিন রাতে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। ওই দিন বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মৃতের বাবা আবু বকর তালুকদারের অভিযোগ, আমতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে চাইলে পুলিশ অজ্ঞাত কারণে হত্যা মামলা নেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, উজ্জ্বল তরমুজ ব্যবসায় লোকসান দিয়ে দিশেহারা হয়ে যান। বেশ কয়েক দিন ধরে স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করেছেন।
তারা আরো বলেন, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে—এমন দৃশ্য আমরা দেখিনি। বুধবার সকালে খবর পেয়ে গিয়ে দেখি লাশ মাটিতে লুটিয়ে রাখা হয়েছে।
সানজিদার মা মনি আক্তার বিলাপ করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মোর মাইয়্যায় কত কইছে মোরা এই বাড়ী হইতে লইয়্যা যাও। ওরা মোরে মাইর্যা হালাইবে। কিন্তু মোরা হুনি নাই। আইজ মোর মাইয়্যাডারে ওরা মাইর্যা হালাইছে। মুই এইয়্যার বিচার চাই।’
মৃতের বাবা আবু বকর তালুকদার বলেন, জামাতা উজ্জ্বল ব্যবসা করবেন বলে এক সপ্তাহ আগে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার মেয়েকে অত্যাচার করেছে। তার অত্যাচারে আমার মেয়ে মারা গেছে। এখন জামাতা ও তার পরিবার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মারা গেছে মঙ্গলবার রাতে আর আমাকে খবর দিয়েছে বুধবার বিকেলে। এত সময় তারা কী করেছে, তা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। পুলিশ ম্যানেজ করেই উজ্জ্বল ও তার স্বজনরা আমাকে খবর দিয়েছে। আমি হত্যা মামলা করতে চাইলে পুলিশ মামলা নেয়নি। আমি এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
উজ্জ্বল তালুকদার যৌতুক দাবি ও শ্বাসরোধে হত্যার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার স্ত্রী খুব জেদি ছিল, তাই কারো প্ররোচনায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।’
আমতলী থানার ওসি মো: ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ‘এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



