মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় আদমপাচারকারী চক্রের দুই সদস্য স্বপ্নের দেশ কানাডায় পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ওই প্রতারকদের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ নম্বর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন উসমান খান ফয়েজ নামে এক ভুক্তভোগী।
মামলার এজাহার ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই দুই প্রতারক হলেন— কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের লৈয়ারহাই গ্রামের ছওয়াব মিয়ার ছেলে প্রকাশ বিছরাকান্দির বাসিন্দা লোকমান হোসেন ওরফে লোকমান মিয়া (৫৮) ও বরমচাল ইউনিয়নের উত্তরভাগ গ্রামের মদই মিয়ার ছেলে সাইজুল ইসলাম উরফে উসমান আলী (৫৫)। গ্রামে তিনি উসমান বাউল হিসেবে পরিচিত। কানাডায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসা দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই দু’জন।
ওই দুই প্রতারক কানাডা পাঠানোর কথা বলে জয়চন্ডী ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামের উসমান খান ফয়েজের (৪৮) কাছ থেকে আট লাখ ২২ হাজার টাকা ও একই ইউনিয়নের আবুতালিপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আজিজুল ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তিন-চার মাসের মধ্যে কানাডা পাঠানোর নামে তাদের কাছ থেকে কয়েক দফায় সর্বমোট ১৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা নেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হলেও তাদের ভাগ্যে কানাডা যাওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারকরা সম্পূর্ণ জাল কাগজপত্র দিয়ে ভিএফএসে পাসপোর্ট জমা করান। পাসপোর্ট জমার প্রায় একবছর পরে ভিসা ছাড়া ফেরৎ আসে পাসপোর্ট। কিন্তু সেই পাসপোর্টের সাথে আ্যাম্বেসির কাগজে কানাডায় পাঁচ বছরের জন্য নো এন্ট্রি উল্লেখ করে। এতে সহায়-সম্বল বিক্রি করে কেবল আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হননি; বরং কানাডা যাওয়ার স্বপ্নও মুছে যায় ওই দুই ভুক্তভোগীর।
দালাল লোকমান মিয়া ও উসমান আলীর কাছে একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলে নানা কালক্ষেপণ করেন তারা। স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠকেও বিষয়টি সুরাহা হয়নি। কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী উসমান খান মৌলভীবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৫ নম্বর আমলী আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ভিসা দেয়ার নামে ওই প্রতারণার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে চাউর হলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। আরো কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি উঠে আসে অনুসন্ধানে। কানাডা পাঠানোর কথা বলে কুলাউড়া শহরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জীবন কৃষ্ণ রায়ের ছেলে রাজকৃষ্ণ রায়ের নয় লাখ টাকা, লৈয়ারহাই গ্রামের সায়েল আহমদের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা, দূর্গাপুর গ্রামের আবুল বাশারের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা, সাদেকপুর গ্রামের খন্দকার আব্দুল আলিমের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা, মৌলভীবাজারের আব্দুল মুকিতের পাঁচ লাখ ও মিজানুর রহমানের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরতের জন্য ধর্ণা দিয়েও কোনো সুরাহা পাননি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করলে তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি। সরাসরি তাদের বাড়িতে গেলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা এলাকায় নেই। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।



