মেহেরপুর শহরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় আটক ৩

‘গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শীতল তার বন্ধু অমরকে দিয়ে প্রতিবেশী ভাবি টগর খাতুনকে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন। এ সময় আগে থেকেই আরেক বন্ধু তানভীর শীতলের বাসভবনে অবস্থান করেন। টগর বাসায় প্রবেশ করলে শীতল ও তানভীর একটি রশি দিয়ে টগর খাতুনের গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার জন্য প্লাস্টিকের বস্তায় নিহত টগরকে ভরে বাসার ছাদে নিয়ে গিয়ে পাশের পরিত্যক্ত জমিতে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।

মেহেরপুর প্রতিনিধি

Location :

Meherpur
গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে
গৃহবধূ হত্যার ঘটনায় আটক তিনজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে |সংগৃহীত

মেহেরপুর শহরে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ টগর খাতুন হত্যার ঘটনায় জড়িত তিন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত বস্তা, রশি, নিহত টগর খাতুনের গহনা ও গহনা বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসামিদের মেহেরপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে, আজ ভোরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাবাদ করা হলে তারা হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর তাদের আদালতে নেয়া হয়।

আটকরা হলেন— শহরের কাশ্যবপাড়ার আনারুলের ছেলে নাসিম হায়দার শীতল (১৭), একই এলাকার রসুল ঘরামির ছেলে নাজমুল হাসান তানভীর (১৭) ও সদর উপজেলার সুবিদপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে আসিব হোসেন ওমর (১৫)।

পুলিশ জানায়, নিহত টগর খাতুন হত্যাকারী শীতলের কাছে ৩০ হাজার টাকা পেত। সেই টাকা চাইলে শীতল টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতিবেশী ওই গৃহবধূকে নিজ বাসায় ডেকে এনে হত্যা করে লাশ গুম করে। গত ৬ জানুয়ারি বিকেলে ক্যাশবপাড়ার পরিত্যক্ত একটি জমি থেকে গৃহবধূ টগর খাতুনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত টগর খাতুন গত ৩০ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে সদর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করে তার পরিবার।

মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শীতল তার বন্ধু অমরকে দিয়ে প্রতিবেশী ভাবি টগর খাতুনকে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে আসেন। এ সময় আগে থেকেই আরেক বন্ধু তানভীর শীতলের বাসভবনে অবস্থান করেন। টগর বাসায় প্রবেশ করলে শীতল ও তানভীর একটি রশি দিয়ে টগর খাতুনের গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার জন্য প্লাস্টিকের বস্তায় নিহত টগরকে ভরে বাসার ছাদে নিয়ে গিয়ে পাশের পরিত্যক্ত জমিতে ছাদ থেকে ফেলে দেয়।

হত্যার পর শীতল ও তানভীর নিহত টগর খাতুনের শরীরে থাকা গহনা খুলে শহরের স্বর্ণপট্টিতে একটা দোকানে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে। ঘটনার দিন বিকেলে স্থানীয়রা একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠায়।

ঘটনার পর নিহত টগর খাতুনের স্বামী সেন্টু হোসেন অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশের একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার ভোররাতে শীতল, তানভীর ও ওমরকে আটক করে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশ আটক আসামিদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণালংকার, লাশ গুমের বস্তা, রশি ও স্বর্ণলঙ্কার বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করে।