পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপে পদ্মা সেতুতে টানা তিন দিনে টোল আদায়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। একইসাথে সেতু এলাকায় তেমন কোনো যানজট বা ভোগান্তি না থাকায় স্বস্তির কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চ— এই তিন দিনে পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট এক লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। একই সময়ে টোল আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি।
তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ ৩৮ হাজার ৫১৭টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয় চার কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা। ১৮ মার্চ ৪১ হাজার ৮৮৫টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয় চার কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার ২৫০ টাকা এবং ১৯ মার্চ ৩৯ হাজার ২৮০টি যানবাহনের বিপরীতে টোল আদায় হয় চার কোটি ৪৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫০ টাকা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। তিনি জানান, দেশের পরিবহন ব্যবস্থায় পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে ঈদের সময় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে পদ্মা সেতু পরিদর্শন করা হয়েছে এবং কোথাও কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আল্লাহর রহমতে এবার যাত্রীদের তেমন কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে নেয়া সমন্বিত প্রস্তুতি ও টোল প্লাজায় একাধিক লেন চালু রাখার কারণে দ্রুত যানবাহন পারাপার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদ শেষে ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ঘরমুখো মানুষ যাতে নিরাপদে ঢাকায় ফিরে কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টরা কাজ শুরু করেছেন।
এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি গুজবে কান না দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
মাওয়া ঘাট এলাকায় ঈদে ঘুরতে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে আগত দর্শনার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে সময় কাটাতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক শেখ ইশতিয়াক আহম্মেদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: রেজাউল করিম, লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো: আনিছুর রহমান ও পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে প্রতি ঈদেই যানবাহন চলাচল ও টোল আদায়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।



