এসএসসির ১ম দিনেই সিলেটে ঘন ঘন লোডশেডিং : পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

এসএসসি ও সমনানের পরীক্ষার প্রথম দিনে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সীমাহিন দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। এতে তীব্র গরমে পরীক্ষার্থীদের লেখায় ছন্দপতন ঘটেছে।

সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
সিলেট শিক্ষাবোর্ড
সিলেট শিক্ষাবোর্ড |নয়া দিগন্ত

এসএসসি ও সমনানের পরীক্ষার প্রথম দিনে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সীমাহিন দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। ৩ ঘণ্টা সময়ের পরীক্ষা চলাকালে অন্তত ৩ থেকে ৪ বার লোডশেডিং হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এতে তীব্র গরমে পরীক্ষার্থীদের লেখায় ছন্দপতন ঘটেছে। যা ভালো ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা অভিভাবকদের।

জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকেই সিলেটে বাড়তে থাকে লোডশেডিং। পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ মিলে বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হচ্ছে লোডশেডিং। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ধস নেমেছে ব্যবসা বাণিজ্যে।

এসএসসি পরীক্ষার দিনে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছিলেন অভিভাবকরা। কিন্তু এসএসসির প্রথম দিনেই সীমাহীন লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল। এমনকি পরীক্ষার আগের দিন রাতে এবং পরীক্ষার দিন সকালেও লোডশেডিং হয়। এতে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটে পরীক্ষার্থীদের।

সিলেট শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানিয়েছে, সিলেটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা। প্রথম দিনে মোট ৭০ হাজার ৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৯ হাজার ৪১০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। অনুপস্থিত ছিলেন ৬৭৪ জন।

মঙ্গলবার নগরীর কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে ও পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো পড়াশোনা ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে পারছেন না তারা। বিশেষ করে পরীক্ষার দিন সকালেও বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে অনেককে।

নগরীর একটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষার্থী সজীব আহমদ বলেন, সকালে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার আগে একটু রিভিশন দিতে পারিনি। এতে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে কিছুটা হলেও ব্যাঘাত ঘটেছে। পরীক্ষার সময় অন্তত লোডশেডিং কিছুটা কম করা উচিত। কারণ এমনিতেই প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হয়। অন্তত পড়ালেখা ও পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখার দাবি জানান তিনি।

এসএসসি শিক্ষার্থী সামিনা আহসান বলেন, পরীক্ষা ভালো হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা চলাকালে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঘেমে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। সরকারের কাছে অনুরোধ থাকবে পরীক্ষার সময়টা যেনো জরুরি উপায়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থাটা ঠিক রাখেন।

এদিকে অভিভাবকরাও ক্ষোভ জানিয়েছেন, এক অভিভাবক জানান ছেলের প্রথম পরীক্ষা ছিল মঙ্গলবার। পরীক্ষা মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিন্তু এই লোডশেডিং বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন অন্তত বিদ্যুৎ সরবরাহটা স্বাভাবিক রাখা উচিত।

মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড জানিয়েছে, সিলেট বিভাগে এবার মোট ৮৯ হাজার ৬৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৬৫০ জন এবং ছাত্রী ৫৩ হাজার ৯৯৩ জন। বিভাগজুড়ে ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২২৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, মঙ্গলবার সিলেট বিভাগে ২১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৫০ মেগাওয়াট। ফলে ৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। স্থানীয়ভাবে আমাদের কিছু করার নেই। লোডশেডিং জাতীয় গ্রিড থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

সিলেটের পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘মঙ্গলবার সিলেট বিভাগে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৪০৮ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ২৫২ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ১৫৫ মেগাওয়াট।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরবরাহের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই স্থানীয়ভাবে আমাদের কিছু করার নেই।’