জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি হতে তৎপর সিলেটের পাঁচ নেত্রী। তবে আলোচনায় রয়েছেন মোট ১০ জন। তারা কেন্দ্রে তাদের বায়োডাটা জমা দিয়েছেন।
সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে সাধারণত দু’জন নারী সংরক্ষিত আসনে এমপি হয়ে থাকেন। সেই অনুসারে এবারো বিভাগ থেকে দু’জন নারী এমপি হতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি সাধারণ আসনে জয়লাভ করেছে বিএনপি। সেই হিসেবে ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে দলটি। সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে। আরপিও অনুযায়ী, সাধারণ আসনে যে দল যতটি আসনে জয়ী হয়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন আয়োজন করা সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক। সেই হিসেবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নারী এমপি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তথ্য বলছে, সাধারণ আসনে বিজয়ী এমপিরাই সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার। আসন অনুপাতে বিএনপি ৩৫ নারী আসনে মনোনয়ন দিলে আসনগুলোতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে নারী এমপিরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন।
দলীয় সূত্র বলছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হতে পারে। দলীয় মনোনয়নের পর প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে নির্বাচন কমিশন তাদেরকে নির্বাচিত করে গেজেট প্রকাশ করবে। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন প্রক্রিয়া।
সূত্র জানায়, প্রার্থী বাছাইয়ে দলের প্রতি আনুগত্য, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্ব পাচ্ছে।
আগ্রহীরা বায়োডাটা জমা দেয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। সিলেটে প্রথম দফায় প্রায় ১৫ জনের নাম আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পাঁচজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তারা হলেন— দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক শাম্মী আক্তার, ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী, জেলা নারী দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জেবুন্নাহার সেলিম, সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের সহধর্মিণী সালমা নজির ও কেন্দ্রীয় নারী দলের সহ-সভাপতি সামিয়া বেগম চৌধুরী।
দলীয় নেতারা বলছেন, শাম্মী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় এবং সাংগঠনিকভাবে পরিচিত মুখ। বিএনপির সিলেট জেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা
মরহুম আবুল হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী পেশায় আইনজীবী, পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমিও তার পক্ষে বিবেচনায় আসছে।
জেবুন্নাহার সেলিম জেলা রাজনীতিতে অভিজ্ঞ এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়। সালমা নজির ভাটি অঞ্চলে সাংগঠনিক যোগাযোগের জন্য আলোচনায় রয়েছেন। সামিয়া বেগম চৌধুরীও দলীয় কার্যক্রম ও সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
এছাড়া আরো কয়েকজন নারী নেত্রীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন— সৈয়দা আদিবা হোসেন, সাবিনা খান পপি, অ্যাডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ ও হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি।
কেউ সংগঠনের পুরনো মুখ, কেউ নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি, আবার কেউ পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কারণে আলোচনায় আছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, সিলেট বিভাগে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গিয়ে চার জেলার মধ্যে ভারসাম্য, নারী সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব, প্রবাসী সংযোগ ও তৃণমূল গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় রাখা হতে পারে।
এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘কতজন সংরক্ষিত নারী সদস্য হবেন, তা দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। জেলায় জেলায় নির্দিষ্ট করে সদস্য দেয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।’



