ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারী-১ আসনে বিএনপি-জমিয়ত জোটের প্রার্থীর অনুসারীদের বিরুদ্ধে খেজুর গাছ প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করতে হয়।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ঠাকুরের স্কুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি-জমিয়ত প্রার্থী মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দীর ছোট ভাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রাইভেট কার ও ৪০টির বেশি মোটরসাইকেলে শতাধিক নেতাকর্মী স্থানীয় এক হিন্দু ব্রাহ্মণের বাড়িতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ভোটারদের টাকা বিলি করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানায় এবং মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন দুর্বৃত্তরা পাশের একটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু এর মধ্যেই বিএনপি–জমিয়ত কর্মীরা জামায়াত নেতা–কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলায় গুরুতর আহত হন বালাপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল মজিদ এবং কর্মী শরিফুল ইসলাম। তাদের ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ভোটার আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৫) বলেন, হঠাৎ করেই একটি মাইক্রোবাস ও ৪০-৫০টি মোটরসাইকেলে শতাধিক লোক এসে ঠাকুরবাড়িতে ঢুকে পড়ে। আমরা দেখতে গেলে দেখি বিএনপির লোকজন দরজা বন্ধ করে খেজুর মার্কার পক্ষে টাকা বিলি করছে। ভিডিও করতে গেলে তারা আমাদের ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। পরে জামায়াতের লোকজন এলে তুমুল বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। তখনই দুর্বৃত্তরা খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেন।’
আহত জামায়াত কর্মী শরিফুল ইসলাম (৩৫) বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিএনপির সাবেক বালাপাড়া ইউনিয়ন সভাপতি হামিদুল ইসলাম আমাকে মারধর করে। অন্তত অর্ধশত বিএনপি-জমিয়ত নেতাকর্মী আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: রওশন কবির ঘটনাস্থলে পুলিশ ও বিজিবি নিয়ে পৌঁছান এবং উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।



