চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বণ্ডবিল রেলগেটে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।
এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় ৪ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের সাথে থাকা আরো কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
আটক কিশোররা হলো—চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপাড়ার শুকুর আলীর ছেলে সাকিব (১৭), সাইফুল ইসলামের ছেলে আহমেদ হোসেন (১৭), রায়হান আহম্মেদের ছেলে রাজ (১৮) এবং আব্দুল্লাহ মন্ডলের ছেলে আব্দুল (১৬)।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—আলমডাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শোভন কুমার এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল রানা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি অভিযোগের তদন্তে শুক্রবার বিকেলে সিভিল পোশাকে উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের নতিডাঙ্গা গ্রামে যান এসআই শোভন কুমার ও এএসআই সোহেল রানা। তদন্ত শেষে মোটরসাইকেলে করে ফেরার পথে বণ্ডবিল এলাকায় ৬ থেকে ৭টি মোটরসাইকেলে ১২ থেকে ১৪ জন কিশোর উচ্চ শব্দে সাইলেন্সার ফাটিয়ে এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছিল।
এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের ধীরগতিতে চলার নির্দেশ দেন। এতে কিশোররা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের পরিচয় দিলেও তারা তা উপেক্ষা করে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি এবং পরে দলবদ্ধভাবে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চার কিশোরকে আটক করা হলেও তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
আহত পুলিশ সদস্য (এএসআই) সোহেল রানা জানান, ৬ থেকে ৭টি মোটরসাইকেলে একদল কিশোর মোটরবাইকের সাইলেন্সার ফাটিয়ে এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছিল। এ সময় তাদের গতি কমাতে বললে তারা উগ্রভাবে আমাদের ওপর আক্রমণ করে। আমরা পুলিশ পরিচয় দেওয়ার পরও তারা আমাদের ওপর দলবদ্ধভাবে হামলা করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৪ জনকে আটক করা হয়।
এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) বিকাশ চন্দ্র জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৪ কিশোরকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মামলা হবে বলে তিনি জানান।



