আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ছয়তলা ভবন থেকে পড়ে মহিউদ্দিন মহিন (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে তার স্বজন ও সঙ্গীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দরজা ও গ্লাস ভাঙচুর করেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাশেম কমপ্লেক্সের নিচ থেকে আহত অবস্থায় মহিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় পুলিশ। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মহিম কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার মো. আবুল কামালের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের শোলকাটা এলাকায় বসবাস করছিলেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহিম স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘সম্রাট গ্রুপ’-এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আনোয়ারা থানায় দাগী সন্ত্রাসীদের তালিকায় তার ছবিও ঝুলানো রয়েছে। এর আগে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় চারটি মামলা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে ভবনটিতে শব্দ শুনে দারোয়ান বাইরে এসে দেখেন একজন যুবক ভবনের ওপর থেকে মাটিতে পড়ে আছেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, রাত ১০টার সময়ও আমার ছেলে ঘরে ছিল। পরে কারো ডাকে বাইরে বের হয়। সকালে খবর পান, আমার ছেলে ভবন থেকে পড়ে মারা গেছে। তিনি দাবি করেন, তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সকালে পুলিশ মহিমকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও সঙ্গীরা হাসপাতালে জড়ো হন। পুলিশের সাথে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে এক যুবক জরুরি বিভাগের দরজা ও গ্লাস ভাঙচুর করে।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ভবনে চুরি করতে গিয়ে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



