হাসনাত আব্দুল্লাহ

বিএনপির অনেক কর্মী-সমর্থক দাঁড়িপাল্লা-শাপলা কলিতে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গতানুগতিক কোনো নির্বাচন না। এ নির্বাচন নতুন করে দেশ গড়ার নির্বাচন। এ নির্বাচন রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের নির্বাচন।

এম আইউব, যশোর অফিস

Location :

Jashore
হাসনাত আব্দুল্লাহ
হাসনাত আব্দুল্লাহ |সংগৃহিত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্যসংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘বিএনপির অনেক কর্মী-সমর্থক দাঁড়িপাল্লা-শাপলা কলিতে ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন। তারা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকতে চান।’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদেরের পক্ষে অনুষ্ঠিত পথসভায় এ কথা বলেন তিনি।

হাসনাত বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গতানুগতিক কোনো নির্বাচন না। এ নির্বাচন নতুন করে দেশ গড়ার নির্বাচন। এ নির্বাচন রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের নির্বাচন। কেউ যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কারচুপির চিন্তা করে থাকে তাহলে তাদেরকে হাসিনার থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এখনো পর্যন্ত জুলাই যোদ্ধারা জেগে আছে। তারা কোনোরকম ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইনসাফের পক্ষে রয়েছি এবং ১১ দলীয় ঐক্য বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আজ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই আপনাদের প্রত্যেককে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে ভোট প্রার্থীর কাছে নয়, ভোট রয়েছে জনগণের হাতে। তাদেরকে দাওয়াত দিন।’

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার প্রশাসনের আচরণ সবাই দেখেছেন। আবারো আওয়ামী কায়দায় পুলিশকে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশকে মনে রাখতে হবে, আপনারা যে পোশাক পরেন তা জনগণের আস্থার প্রতীক। আপনারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নয়। আপনারা জনগণের জন্য কাজ করেন।’

হাসনাত বলেন, ‘আপনারা জুলাই আন্দোলনের কথা ভুলে যাবেন না। গুলি-গোলাবারুদ দিয়েও জনগণকে থামানো যায়নি। তাই গোলামির মানসিকতা পরিত্যাগ করুন। আগের তিনটি নির্বাচনের মতো আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন আমরা চাই না।’

পুলিশের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, ‘আপনারা অবৈধ টাকার স্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। একদিন গোলামি করলে আগামী পাঁচ বছর রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পোস্টিং ও বদলির জন্য দাসত্ব করতে হবে। আপনাদের বিএনপির পুলিশ, জামায়াতের পুলিশ কিংবা এনসিপির পুলিশ হওয়ার দরকার নেই, আপনারা বাংলাদেশের পুলিশ হন। আমরা আপনাদের পাশে থাকব, পাহারা দেব। পুরো বাংলাদেশ আপনাদের সহযোগিতা করবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পর দেশ কেমন হবে তা আপনাদের ভূমিকার ওপরই নির্ধারিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তির নির্বাচন, ফ্যাসিবাদকে কবরস্থ করার নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পাহারা দিতে হবে। সেদিনই যশোরবাসী নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের বলেন, ‘হাসনাত শুধু একজন ব্যক্তির নাম নয়, হাসনাত আব্দুল্লাহ অন্যায়ের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতীক। যশোরবাসী আর চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও নারী নির্যাতনকারীদের দেখতে চায় না। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হাসনাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে জনগণের শক্তিতেই জয় নিশ্চিত হবে। সেদিন যশোরের সব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের লালকার্ড দেখানো হবে।’

পথসভায় আরো বক্তৃতা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাকিব শাহরিয়ার। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি যশোরের প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান। সভা শেষে ভৈরব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য নির্বাচনী মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।