বরিশাল জেলার মুলাদী উপজেলার মুলাদী সদর ইউনিয়নের ৭৪ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব চরলক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাসে যেতে রাস্তা না থাকায় কমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্কুলের মাঠ দিয়ে ক্লাসে যেতে কাদা, মাটি আর পানিতে একাকার হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। কাঁদা মাটির মাঠটি দিয়ে শ্রেণি কক্ষে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই পিছলে পড়ে আহত হচ্ছে অনেক শিশু শিক্ষার্থীরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
শিক্ষার্থী আফছানা, রাবেয়া, আনোয়ার ও জাহিদ বলেন, আমরা ক্লাসে যেতে কাদা মাটির মাঠটি দিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় পা পিছলে পড়ে মাটির সাথে একাকার হয়ে যাই। তাই আমাদের আলাদা রাস্তার প্রয়োজন। মাঠটির পাশ দিয়ে ক্লাসে যাবো তা আবার খেলাধুলা করে আরো কর্দমাক্ত করে রাখে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহিরাগতদের নিয়মিত খেলাধুলার কারণে মাঠের ঘাস ও ওপরের মাটি উঠে গিয়ে পুরো মাঠ কাদায় পরিণত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে অনেক শিক্ষার্থী কাদায় পিছলে পড়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে তাদের স্কুলের পোশাক নোংরা হয়ে যায়। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কাদা মাটির মধ্যে দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষকদেরও।
প্রায় সময়ই বিদ্যালয়ের ক্লাসে যাবার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী কাদায় পিছলে পড়ে যায় বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে তাদের পোশাকের পাশাপাশি বই-খাতাও নষ্ট হয়েছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়ারা বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ শিশুদের খেলাধুলা, মানসিক বিকাশ ও নিরাপদ চলাচলের অন্যতম স্থান হওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমানে মাঠটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে যেমন শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে অপর দিকে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জসিম উদ্দীন বলেন, ‘বহিরাগতরা নিয়মিত মাঠে খেলাধুলা করায় চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই কাদায় পড়ে গিয়ে জামা-কাপড় কাদা আর পানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে। জামা কাপড় পরিবর্তন গিয়ে আর ক্লাসে আসে না। মাঠে বালু ভরাট করে উঁচু করা হলে কাদা সমস্যার সমাধান হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে প্রবেশের জন্য একটি পৃথক রাস্তা নির্মাণ করা হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: রেজাউল করিম বলেন, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: গোলাম সরওয়ার বলেন, ‘বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করা হবে। এরপর মাঠটি দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



