ডিমলায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্লোগান

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এখনো প্রধানমন্ত্রী ও সরকারবিরোধী অবস্থানে থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

Location :

Dimla
ডিমলায় স্কুলের দেয়ালে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্লোগান
ডিমলায় স্কুলের দেয়ালে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্লোগান |নয়া দিগন্ত

ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এখনো প্রধানমন্ত্রী ও সরকারবিরোধী অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন। দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও সক্রিয় হয়ে উঠছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার রূপাহারা শিশুকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাইরের লাল রঙে স্প্রে করে স্পষ্টভাবে লেখা হয়েছে— ‘খাম্বা তারেক হটাও বাংলাদেশ বাঁচাও - যুবলীগ’ এবং ডিমলা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ভবনেও লেখা হয়েছে— ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয় ও পরিবার পরিকল্পনা ভবনের নিচের অংশে এই দেয়াল লিখন এখনো স্পষ্ট রয়েছে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এটিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের সরকারবিরোধী প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ডিমলা উপজেলায় এ ধরনের তৎপরতা বেড়েছে। সংগঠনটির ডিমলা উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীরা সাইবার টিমের মাধ্যমে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও উপস্থিতি জানান দেয়ার চেষ্টা করছে।

এর সাথে জড়িত রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা রামচন্দ্র রায়, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন স্বাধীন, আওয়ামী লীগ নেত্রী মোছা: জাহানারা বেগম, কৃষক লীগ নেতা রায়হান, যুবলীগ নেতা উমর ফারুক, মুশফিকুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ প্রধান ও বিপ্লব সেন ।

এছাড়া ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক সরকার মিন্টু, ব্যারিস্টার ইমরান কবির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তবিবুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি মুন ও সঞ্জীব কুমার, ডিমলা মেডিক্যাল মোড় এলাকায় আওয়ামী লীগের ত্রাস আলাল উদ্দীন, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল লতিফ, জাহেদুল ইসলামসহ কয়েক ডজন নেতা-কর্মী উঠতি বয়সী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের অর্থ দিয়ে এসব কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ডিমলা থানা পুলিশ কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের এই অবাধ বিচরণ ও অপকর্ম দেখেও কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে তাদের কর্মীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের কমেন্টে মো: জুয়েল ইসলাম লিখেছেন, ‘সমস্যা শুধু দেওয়ালে লেখালেখি নয়, ভাই। প্রকৃত সমস্যা হলো— যদি বিএনপির কিছু নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের লোকজনকে সাথে নিয়ে চলাফেরা করেন এবং সুযোগ করে দেন, তাহলে আজ তারা শুধু দেওয়ালে লিখছে, আর ভবিষ্যতে দলীয় অবস্থানে সিল মেরে দেবে।’

অপর এক কমেন্টে ফারুক হোসেন লিখেছেন, ‘ডিমলা উপজেলা পুলিশ সব সময় খোঁজে কোথায় মাদকের আড্ডা, কোথায় গেলে ইনকাম করা যাবে।’

ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে জানা যায়, তিনি ছুটিতে আছেন।

স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন প্রকাশ্য তৎপরতা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাবে। প্রশাসন ও পুলিশের উচিত অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড যাতে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সতর্ক নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।