চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
বাগেরহাটের চিতলমারীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত আমির হামজার (২৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয় তাকে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রামের বাড়িতে প্রবেশ করে হামজাকে গুলি করে হত্যা করে
দুর্বৃত্তরা। পরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে আমির হামজার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
নিহত আমির হামজা শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সির ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
সূত্র জানায়, হত্যার শিকার হামজা খুলনার একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত ছিলেন। তার নামে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এরমধ্যে খুলনার রূপসা এলাকার আব্দুল বাছেদ বিকুল হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছিলেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনায় নিহত হামজার মা মেহেরুননেসা নাছরিন বাদিয় হয়ে আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিরা বাগেরহাট ও খুলনার বাসিন্দা। মামলার স্বার্থে আসামিদের নাম উল্লেখ করেনি পুলিশ।
নিহতের ছোট ভাই আরমান মুন্সি বলেন, ‘ঈদের দুইদিন আগে আমরা গ্রামের বাড়িতে আসছি। ঈদ করে আমাদের বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। যাওয়ার আগমুহুর্তে আমির হামজাসহ আমরা বাড়ির উঠোনে ছিলাম। হঠাৎ করে একজন গামছা বিক্রির ছদ্দবেশে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেন। পরক্ষণেই হেলমেট ও মাক্স পরিহিত আরো কয়েকজন বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে ওয়াকিটকি, পিস্তল এবং একজনের হাতে বড় শটগান ছিল। তখন আমার ভাই ঘরের মধ্যে চলে যায়, তারা আমার ভাইকে ধাওয়া করে। তার ব্যবহৃত ফোন দু’টি নিয়ে নেয়। আমার ভাই দৌড়ে ছাদে চলে যায়। তারাও পিছন পিছন যায়। ছাদ থেকে লাফিয়ে রান্নাঘরের চালে এবং পরে পাশের চিত্রা নদীর মধ্যে পরে। সেখানেই তাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। আমাকেও ধরার চেষ্টা করলে, আমি পালিয়ে যাই।’
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, বাড়ির চারপাশেই দু’জন-তিনজনের দলে ভাগ হয়ে লোক দাঁড়ানো ছিল। খুব স্বল্প সময়ে হত্যা করে চলে যায় তারা।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে আমির হামজার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন তার মা। আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’



