কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন উপজেলায় টানা চার দিন ধরে লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে করিমগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ সঙ্কটে বোরো ধানের সেচ কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
সদর, হোসেনপুর, পাকুন্দিয়া, নিকলী, ইটনা, মিঠামইন, কটিয়াদী ও তাড়াইল উপজেলাতেও একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ও গ্রাহক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) থেকে আজ রোববার (৫ এপ্রিল) পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১২-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। দিন ও রাতে প্রায় প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে ২৪ ঘণ্টায় ২০-২৫ বার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া হচ্ছে। লো-ভোল্টেজের কারণে বাসাবাড়ির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বোরো মৌসুমে করিমগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার খয়রত গ্রামের কৃষক ওমর সিদ্দিক বলেন, ‘দিন-রাতে সাত-আট ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাই না। এখন সেচের সময়, কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে পাম্প চালানো যাচ্ছে না। সময়মতো পানি দিতে না পারলে আবাদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’
এদিকে বিদ্যুৎ সঙ্কটে গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগও বেড়েছে। করিমগঞ্জ পৌর এলাকার কলেজশিক্ষক কামাল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় পাখা চলে না। দুই মাস পর এইচএসসি পরীক্ষা, কিন্তু শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়তে পারছে না।’
ইটনা উপজেলার চৌগাংগা গ্রামের গৃহিণী রেহানা আক্তার বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ঘরে থাকা যায় না। আমার ছোট সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা থাকে না।’
নিকলী ও মিঠামইনের হাওর এলাকা ও পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুরে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন গ্রাহকরা। নিকলীর বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।’
কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো: আতিকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে গড়ে ১২০ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। ঘাটতির কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’



