জাবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীর নামে ছাত্রদল আহ্বায়কের মামলা

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে মামলাটি করা হয় বলে রাতে নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদরুল আলম।

আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার ৮ নেতাকর্মীসহ ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে মামলাটি করা হয় বলে রাতে নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদরুল আলম।

জানা গেছে, মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা অভিযুক্তরা হলেন—আসিফ আহমেদ (রসায়ন ৩৯), মোহাম্মদ নাজিমুল ইসলাম ওরফে বোরন (অর্থনীতি ৪২), মো: আমান উল্লাহ (দর্শন ৪২), মো: জায়মান আলী প্রিন্স (প্রত্নতত্ত্ব ৪২), মোহাম্মদ কৌশিক রহমান (লোক প্রশাসন ৪২), মো:শাহরুখ শাহরিয়ার ওরফে সৌমিক (লোক প্রশাসন-৪২), মোহাম্মদ ইয়াসিন (ভুগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান ৪২) এবং মোহাম্মদ হাবিবউল্লাহ (লোক প্রশাসন ৪২)।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে রসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তর টিউটোরিয়াল পরীক্ষা শেষে আসিফ আহমেদের নেতৃত্বে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রসায়ন বিভাগের গ্যালারিতে প্রবেশ করে জহির উদ্দিন বাবরের ওপর হামলা চালায়। তাকে টেনে-হিঁচড়ে ভবনের সামনে এনে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় লোহার রড ও পাইপ দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। এছাড়াও নাজিমুল ইসলাম ওরফে বোরন তার হাতে থাকা জিআই পাইপ দিয়ে বাবরের ডান পায়ে মারাত্মক আঘাত করেন, ফলে পায়ের হাড় ভেঙে যায়। পরে সহপাঠীদের সহায়তায় তিনি উদ্ধার হন এবং প্রথমে জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে, পরে শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদি জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্য মারধর করে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়, আমার শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। দেশের বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশর কারণে আমি এতদিন আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারিনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বৃহস্পতিবার আমি আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছি, আমার প্রত্যাশা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করবে।’

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদরুল আলম বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’