শেওলা স্থলবন্দরে ১ মাস ধরে বন্ধ আমদানি-রফতানি

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। তবে জুলাই মাসজুড়ে বন্দর বন্ধ থাকায় রাজস্ব আদায় তলানিতে নেমেছে।

আবদুল কাদের তাপাদার, সিলেট ব্যুরো

Location :

Sylhet
শেওলা স্থল বন্দর
শেওলা স্থল বন্দর |নয়া দিগন্ত

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দরে থেমে গেছে প্রাণচাঞ্চল্য। এই বন্দরে গত এক মাস ধরে আমদানি রফতানি বন্ধ থাকায় ব্যস্ত এই বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য নেই। ফলে সঙ্কটে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা, ভিসা জটিলতা ও ভারত সীমান্তের ওপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙ্গে পড়ায় বন্দর দিয়ে আমদানিতে সরকারের রাজস্ব আয় অনেক কমে গেছে। আর রফতানি হচ্ছে নামেমাত্র। অনেক পণ্য রফতানি না হওয়ায় শতাধিক ব্যবসায়ীর ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশী কিছু পণ্য রফতানিতে ভারত সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে গতি ফিরবে স্থলবন্দরে।

এই বন্দর দিয়ে সাধারণত কয়লা, পাথর, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানি করা হয়। আবার খাদ্যদ্রব্য, হস্তশিল্প, বেত ও তাঁতের তৈরি দ্রব্য, ফলমূল, প্রাণ পণ্য, হিমায়িত মাছ, শুঁটকি ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রফতানি করে বাংলাদেশ।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার থেকে ৩৬ কোটি টাকা বেশি।

বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা প্রিয় দাসী বলেন, ‘চলতি বছর এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়নি। তাছাড়া অর্থবছর শুরুর প্রথম মাসে ভারতের সেতু ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পুরো জুলাই মাসজুড়ে আমাদের রাজস্ব আদায় তলানিতে।

বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের সাথে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রফতানি বাণিজ্য।

২০২৫ সালের মে মাসে স্থলবন্দর দিয়ে প্লাস্টিক ফার্নিচার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত জুস এবং তুলার মতো উচ্চ চাহিদা সম্পন্ন কয়েকটি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারত সরকার। মূলত শেওলা স্থলবন্দরের রফতানি আয়ের প্রায় অর্ধেকই নির্ভর করে এসব পণ্যের ওপর।

স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়ার নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ভারতের বাজার খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তবে ভারতীয় ভিসা জটিলতা কমলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। আমরা ভারতের অভ্যন্তরে নতুন নতুন বাজার ধরতে পারব। ভারতের নিষেধাজ্ঞায় থাকা পণ্যগুলোর বিষয়েও সমাধান হয়নি। শুনেছি ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এই বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। কোনো বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে কিনা তাও আমাদের অবগত করা হয়নি।’

শেওলা স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহবুব হাসান বলেন, ‘এই বন্দর দিয়ে ব্যবসার পরিস্থিতি আরো বেগবান করতে আমরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করছি।’