গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় মামলা, রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অফিসের রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

রাশিদুল ইসলাম বোরহান, গাংনী (মেহেরপুর)

Location :

Gangni
গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় মামলা, রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ
গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় মামলা, রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ |নয়া দিগন্ত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অফিসের রেজিস্ট্রি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ঘটনায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত সেবাগ্রহীতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, গ্রাম থেকে কাজকর্ম ফেলে এসে জানতে পারলেন রেজিস্ট্রি বন্ধ। তাছাড়া জরুরি প্রয়োজনে অনেকে জমি বিক্রি করতে এসে অফিস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন। জমি বিক্রি করে বিদেশ যাওয়া, চিকিৎসা করা ছাড়াও অতি জরুরি কাজ বন্ধ হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।

সম্প্রতি প্রতি দলিল রেজিস্ট্রি করতে ফাইলিংয়ের জন্য ১ হাজার ও বিবিধ খরচ ২০০ টাকা দেখিয়ে অতিরিক্ত ১২০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেন লোকজন নিয়ে অফিস থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে বের করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন আজাদ আলীকে। এ ঘটনায় আজাদ আলীর বাম চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ব্যাপারে ইমন হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলিল রেজিস্ট্রি করতে ফাইলিং ও বিবিধ খরচের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতি দলিলে অতিরিক্ত ১২০০ টাকা অবৈধভাবে কেন নেয়া হয়, তার কোনো উত্তর দিতে পারেননি আজাদ আলী।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি প্রশ্রয় দেয়া হবে না। তাকে অনেকবার নিষেধ করা হয়েছে, সে কোনো কথা না শোনায় তাকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু আজাদ আলীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।’

এদিকে ভুক্তভোগী আজাদ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমাকে সন্ত্রাসী কায়দায় অফিস থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমার নামে মিথ্যা টাকা তোলার অভিযোগ করা হচ্ছে। আমি এ ঘটনায় হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মাহফুজ রানা জানান, ‘আমার অফিস স্টাফকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় জেলা রেজিস্ট্রারের নির্দেশে অফিস বন্ধ রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজাদ আলী যদি অনিয়ম করে থাকেন, তবে তার জন্য কর্তৃপক্ষ আছে। কিন্তু বহিরাগতরা অফিসে ঢুকে একজন কর্মরত সরকারি অফিস সহকারীকে কেন লাঞ্ছিত করবে? এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে।’

এ নিয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মনিরুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, ‘যারা এ কাজ করেছে তারা বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করে বেড়ায়, যা আমাদের দল বিএনপি কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই ও এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। তবে যদি কেউ অনিয়ম করেই থাকে, তার জন্য প্রচলিত আইন আছে, কর্তৃপক্ষ রয়েছে, তারা ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টি করে সরকারি অফিসের কর্মরত ব্যক্তিকে টেনেহিঁচড়ে বের করে সবার সামনে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘দলীয়ভাবে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, সে বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতারা ভালো বলতে পারবেন।’

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী যিনিই হোন না কেন, তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা উচিত নয়। আমাদের দল এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। যদি এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাদ্দেস মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘আজাদ আলী নিজে বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন। মামলা রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলছে।’