বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল রয়েছে। এতে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট বেড়েছে। জোয়ারের পানি ঢুকে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে মহেশখালীতে জোয়ারে ভেসে গিয়ে দানু মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
গত তিন দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি ও মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে ভয়াবহ অবস্থা সেন্টমার্টিন দ্বীপ এবং কুতুবদিয়া দ্বীপ। বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের বেশ কিছু বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সতর্ক করে সৈকতে লাল পতাকা উঁচিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ। সৈকতে পর্যটকদের সতর্কতার সাথে গোসল করতে বলা হয়েছে। অনেকেই সতর্কতা উপেক্ষা করে সাগরে গোসল করতে দেখা গেছে।
এদিকে নিম্নচাপের প্রভাবে সাগরের জোয়ারের পানি ২ থেকে তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙা জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া ও টেকনাফ সমুদ্র উপকূলের অন্তত ১৫টি এলাকায় ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে কমপক্ষে ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দ্বীপ উপজেলার কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে কবি জসীম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে বেড়িবাঁধ লাগোয়া বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প। বিদ্যুৎ প্রকল্প ভবনের দক্ষিণ পাশে ৫০ মিটারের মতো ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকছে। এতে এ ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া, সন্দ্বীপী পাড়া, হাই স্কুল পাড়া ও শান্তি বাজার এলাকা অন্তত ৩ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন মৌলভীপাড়া ও মফজল আহমদ পাড়ার অন্তত ২০০ বাড়িতে পানি ঢুকেছে।
একইভাবে উপজেলার উত্তর ধুরং ইউনিয়নের মিয়ারাকাটা ও দক্ষিণ ধুরংয়ের বাতিঘর পাড়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকেছে।
কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, বায়ুবিদ্যুৎ এলাকার বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি উঠা-নামা করছে। দ্বীপের ৭ থেকে ৮ পয়েন্টে বেড়িবাঁধ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ভাঙা অংশ দ্রুত মেরামত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হওয়া নিম্নচাপ মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। যেসব গ্রামে বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে সেসব এলাকার লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, কুতুবদিয়া উপজেলা সদর উপজেলা মহেশখালী ও সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে জোয়ারের পানি ঢুকেছে।
তিনি আরো জানান, মহেশখালীতে জোয়ারের পানিতে ডুবে দানু মিয়া নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দানু মিয়া ওই এলাকার নুর হোসেনের ছেলে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামাল মোর্শেদ জানান, ‘কুতুবদিয়া, মহেশখালী ও পেকুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের তোড়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো: আবদুল হান্নান জানিয়েছেন, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত আবহাওয়া পরিস্থিতি এমন থাকতে পারে।



