চরফ্যাশনে আমের মুকুলে কৃষকের মনে আশার আলো

এ বছর সমগ্র এলাকায় আমের প্রচুর মুকুল ধরেছে, আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রচুর পরিমাণ ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, চরফ্যাশন (ভোলা)
আমের মুকুল
আমের মুকুল |নয়া দিগন্ত

মধুমাসের স্বাদ নিতে বাকি আর মাত্র কয়েক মাস। সেই প্রস্তুতিতে প্রকৃতি সেজেছে আপন সাজে। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল।

আমের মুকুল মানেই কৃষকের মনে আশার আলো। যে মুকুল থেকেই আসবে সারা বছরের কাঙ্ক্ষিত ফল-সুমিষ্ট আম।

চরফ্যাশনে শশীভুষনের বিস্তীর্ণ দিগন্তজুড়ে নানা জাতের আমের বাগান গড়ে তুলেছেন জাহাঙ্গীর হোসেন মিয়াজী।

মিয়াজীর খামারবাড়ি বহুমুখী প্রকল্পের ম্যানেজার মো: সেলিম জানান, পৌনে সাতকানি জমির খামারে প্রায় ২৫ ধরনের আমগাছের পাশাপাশি জামরুল, মাল্টা, লিচু ও সফেদাগাছ রয়েছে। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর বিপুল পরিমাণে আমের মুকুল এসেছে।

তিনি বলেন, গাছের যত্ন করি। জৈব সার দেই কীটনাশক সীমিত মাত্রায় ব্যবহারের পাশাপাশি ফেরোমন ফাঁদ দিয়ে পোকা দমন করি। পানির সেচও দেই নিয়মিত। আবহাওয়া ভালো থাকলে ভালো ফলন হবে।

দুই লাখ টাকা খরচে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হয়। ফরমালিনমুক্ত এবং গাছ থেকে পাকা আম সংগ্রহ করে বিক্রি করা হয় বলে সাধারণ মানুষের চাহিদা বেশি।

আমের আশানুরূপ ফলন পেতে আমের গুটি ঝড়া রোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হুদা।

তিনি বলেন, ‘এখন আমের প্রধান সমস্যা গুটিঝরা। এজন্য নিয়মিত সেচ দিতে হবে। আম যখন মটর দানার মত এবং মার্বেল আকৃতির হবে এই দুই সময় স্প্রে করতে হবে। এক লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইউরিয়া অথবা দুই গ্রাম বোরন সার মিশিয়ে গাছের গোরা ভিজিয়ে স্প্রে করার কথা জানান তিনি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্বমীর কুমার বলেন, এ বছর সমগ্র এলাকায় আমের প্রচুর মুকুল ধরেছে, আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রচুর পরিমাণ ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।