কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় সারাদেশের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয়েছেন লালমনিরহাটের প্রত্যন্ত গ্রামের মাদরাসা ছাত্র মোহাম্মদ আসিফ ইসলাম।
রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে (ডিআরএমসি) মর্যাদাপূর্ণ তৃতীয় ডিআরএমসি জাতীয় ইসলামী সাংস্কৃতিক উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ও প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী হাত থেকে মোহাম্মদ আসিফ ইসলাম পুরস্কার গ্রহণ করেন।
‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ (এসো কল্যাণের পথে) স্লোগানে আয়োজিত এই উৎসবে দেশের শতাধিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ৩২টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরির এই বিশাল আয়োজনে লালমনিরহাটের একটি মাদরাসার এই জয়জয়কার পুরো জেলার জন্য এক বড় প্রাপ্তি।
দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার মাঝে যখন আসিফের শৈশব কাটছিল, ঠিক তখনই ‘হাজী রেফাজ উদ্দিন শহীদ মোল্লা হাফেজী মাদরাসা ও এতিমখানায় ভর্তি করা হয়। সেই এতিমখানাই তাকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আসিফ বর্তমানে এই মাদরাসায় ১৫ পারা হিফজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। সাফল্যের শিখরে দাঁড়িয়েও সে ভুলে যায়নি তার পেছনের কারিগরকে।
মোহাম্মদ আসিফ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মাদরাসাটি যদি মেজবা উদ্দিন বিপ্লব স্যার অনেক লড়াই করে গড়ে না দিতেন, তবে আজ আমি ঢাকার এই বড় মঞ্চে দাঁড়াতে পারতাম না। অনেক কষ্ট করে তিনি আমাদের পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই পুরস্কার আমি আমার সেই শিক্ষক এবং বিপ্লব স্যারকেই উৎসর্গ করলাম।’
হাজী রেফাজ উদ্দিন শহীদ মোল্লা হাফেজী মাদরাসা ও এতিমখানার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মেজবা উদ্দিন বিপ্লব বলেন, ‘আসিফের এই সাফল্য কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং অবহেলিত জনপদের হাজারো পিতৃহীন ও ভাগ্যবিড়ম্বিত শিক্ষার্থীর জন্য এক অনুপ্রেরণার বাতিঘর। ষড়যন্ত্রকে জয় করে মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত এক প্রজন্ম গড়ার যে শপথ তিনি নিয়েছিলেন, আসিফের এই ‘বাজিমাত’ সেই যাত্রায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল।



